কৃষি ও প্রকৃতি

ডিজেল ও সার সংকটে কৃষি খাতে উদ্বেগ, উৎপাদন ব্যয় ও সেচ ব্যবস্থায় বিপর্যয়

অনলাইন ডেস্ক

১৭ দিন আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


দেশে চলতি সময়ে ডিজেল ও সার সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও সার চড়া দামে কিনতে বাধ্য হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে ভরা মৌসুমে বিদ্যুতের লোডশেডিং ও ডিজেল সংকটে সেচ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বাজারে কৃত্রিম সংকট ও দামের অস্থিরতা

সরকারি নির্ধারিত দামে ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রির কথা ১ হাজার ৩৫০ টাকা হলেও মাঠ পর্যায়ে কোথাও কোথাও তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকরা বলছেন, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করছেন।

একই সঙ্গে টিএসপি সারের তীব্র ঘাটতির কথাও জানিয়েছেন অনেকে। বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনছেন বা বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন।

সার উৎপাদনে গ্যাস সংকটের প্রভাব

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস সংকটের কারণে দেশে ৯৯ শতাংশের বেশি সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানায় সীমিত পরিসরে উৎপাদন চলছে, যেখানে দৈনিক প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে।

শাহজালাল, চট্টগ্রাম, যমুনা ও আশুগঞ্জসহ অধিকাংশ সার কারখানা গ্যাস সরবরাহের অভাবে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

মজুত নিয়ে ভিন্ন চিত্র

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একাংশ দাবি করছে, দেশে সার সংকটের আশঙ্কা নেই এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে কৃষক ও ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে।

সরকারি হিসাবে দেশে প্রায় ৪ লাখ টন ইউরিয়া মজুত থাকলেও ডিলার পর্যায়ে সীমিত সরবরাহ থাকায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে ৫ লাখ টন সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ডিজেল সংকটে সেচ ব্যবস্থার বিপর্যয়

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পিরোজপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সেচ পাম্প বন্ধ থাকায় জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেলের উচ্চমূল্য ও অনিয়মিত সরবরাহের কারণে সময়মতো সেচ দেওয়া যাচ্ছে না, ফলে উৎপাদন ক্ষতির মুখে পড়ছে।

উৎপাদন ব্যয় ও বাজারে প্রভাব

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সেচ ব্যবস্থা ডিজেলনির্ভর। ফলে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও সংকট সরাসরি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিবহন ব্যয় ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব খাদ্যদ্রব্যের বাজারে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারের অবস্থান

কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সার ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন করে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার ব্যবস্থাপনা ও ক্রয় প্রক্রিয়া তদারকির জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে সংকট অব্যাহত থাকায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

উপসংহার

সার ও ডিজেল সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ঘাটতি মিলিয়ে দেশের কৃষি খাত এক ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। ভরা মৌসুমে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom