রাজনীতি

ছাত্রদলের ‘আদু ভাইদের’ সিট দিয়ে তোপে প্রশাসন

অনলাইন ডেস্ক

৫ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ আবাসন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় দুই দশক আগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীসহ ছাত্রদল ও যুবদলের অন্তত ৩৬ জন নেতাকর্মীকে ‘বিশেষ বিবেচনায়’ বিভিন্ন আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, যেখানে সদ্য ভর্তি হওয়া ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনো আবাসন সুবিধা পাচ্ছেন না, সেখানে বহু আগের সেশনের শিক্ষার্থীদের সিট দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায্য। তাদের ভাষ্য, আবাসন সংকট নিরসনে বিদ্যমান নীতিমালা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক বিবেচনায় এ সিট বণ্টন করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ‘বিশেষ বিবেচনায়’ সিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০০৮-০৯ থেকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। এমনকি কেউ কেউ বহু আগেই শিক্ষাজীবন শেষ করার কথা থাকলেও বিভিন্ন উপায়ে হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নবীনদের ভোগান্তি, ক্ষোভে বিক্ষোভ

এদিকে আবাসন সংকটে ভোগা শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে ডাকসু ও হল সংসদের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

বিক্ষোভ শেষে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ প্রশাসনকে সাত দিনের আলটিমেটাম দেন। তিনি বলেন, “তিন সপ্তাহ আগে উপাচার্যের কাছ থেকে আশ্বাস পেলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিট সমস্যার সমাধান না হলে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনে যেতে বাধ্য হবে।”

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিট দেওয়া সম্ভব না হলে অন্তত আবাসন ভাতা বা উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

চার দফা দাবি

বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন-

২০২৫-২৬, ২০২৪-২৫ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য দ্রুত সিট বরাদ্দের সার্কুলার প্রকাশ

দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও ডিজিটাল মনিটরিং চালু

আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সিট বরাদ্দ তালিকা প্রকাশ

দীর্ঘমেয়াদি ও অনিয়মিত ‘প্রবীণ’ শিক্ষার্থীদের সিট বাতিল

প্রশাসনের ব্যাখ্যা

প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “যে ৩৬ জনকে সিট দেওয়া হয়েছে, তা বিশেষ বিবেচনায়। তারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন।” তিনি দাবি করেন, নীতিমালা মেনেই সিট বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য সিট নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।

তবে প্রশাসনের এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বাস্তবে নীতিমালা প্রয়োগে স্বচ্ছতা নেই এবং রাজনৈতিক প্রভাবেই সিট বণ্টন হচ্ছে।

উপাচার্যের বক্তব্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতভাগ আবাসিক নয়, তাই সবার জন্য একসঙ্গে আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।” তিনি জানান, বিষয়টি প্রভোস্টদের বৈঠকে আলোচনা করা হবে এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সিট সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের চেষ্টা করা হবে।

সংকটের বাস্তব চিত্র

শিক্ষার্থীদের মতে, বর্তমানে এক হাজারেরও বেশি অযোগ্য শিক্ষার্থী বিভিন্ন উপায়ে হলে অবস্থান করছেন। ইয়ার ড্রপ, পুনঃভর্তি বা অন্যান্য কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে হলে থাকার ফলে নতুন শিক্ষার্থীরা সিট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থী বলেন, “ঢাকায় এসে কোথায় থাকব, সেটাই জানি না। অথচ পুরোনো সেশনের শিক্ষার্থীরা সিট পাচ্ছে-এটা মেনে নেওয়া কঠিন।”

বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ ও ন্যায্য আবাসন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom