আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের ইরান নীতি ‘দ্বিমুখী ফাঁদে’, দীর্ঘায়িত সংঘাতে চাপে হোয়াইট হাউস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৪ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমেই জটিল এক বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম  সিএনএন। সংবাদমাধ্যমটির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক চাপ বজায় রাখলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক-দুই দিক থেকেই সংকটে পড়েছেন ট্রাম্প। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন তার জন্য এক ধরনের “দ্বিমুখী ফাঁদে” পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষণে বলা হয়, টানা ৪০ দিনের তীব্র সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন ও তেহরান। পরে মার্কিন প্রশাসন সেটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্প্রসারণ করে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মূল বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সংকট তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর ইরানের প্রভাব এখনও অটুট রয়েছে। তেহরানও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না। ফলে গ্রহণযোগ্য সামরিক ব্যয়ে যুদ্ধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র।

একই সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে। সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসের মূল্য ৪ দশমিক ৫০ ডলারের বেশি পৌঁছেছে। পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী জনমতও জোরালো হচ্ছে। এতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩০ শতাংশের ঘরে নেমে এসেছে বলে দাবি করা হয়।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির আশাবাদী বক্তব্য দিচ্ছে, অন্যদিকে বারবার সামরিক কৌশল পরিবর্তন করছে। বিশ্লেষণে বলা হয়, এ দ্বৈত অবস্থান মূলত রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার কৌশল।

এক পৃষ্ঠার স্মারকলিপি নিয়ে আলোচনা

বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি এক পৃষ্ঠার স্মারকলিপি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই নথি যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এবং পরবর্তী ৩০ দিনের আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করতে পারে।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রায় অর্ধশতাব্দীর জটিল বিরোধ একটি সংক্ষিপ্ত নথির মাধ্যমে সমাধান করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠী এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বহু অমীমাংসিত ইস্যু এখনও রয়ে গেছে।

এছাড়া তেহরান চায় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হোক, যাতে তাদের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী-কে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চায় ইরান।

ট্রাম্পের দাবি, তেহরানের ভিন্ন অবস্থান

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বড় ধরনের “চুক্তি” খুব কাছাকাছি এবং তেহরান নাকি অধিকাংশ দাবিতে সম্মত হয়েছে। তবে ইরান বারবার এ দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে।

কিছু কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান আলোচনা হয়তো যুদ্ধ শেষ করার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছেছে। তবে এখনো উভয় পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন কৌশলে বারবার পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে।

এরপর ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে আরেকটি উদ্যোগ নেয়। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সীমিতসংখ্যক জাহাজকে নিরাপদে পৌঁছে দিয়ে সেটিও স্থগিত করা হয়।

ট্রাম্প পরে বলেন, তিনি যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে চান।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক অভিযান, যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে বারবার অবস্থান পরিবর্তন বর্তমান মার্কিন নীতির অনিশ্চয়তাকেই তুলে ধরছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom