জাতীয়

ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি: ‘জিয়াউল আমার নির্দেশ অমান্য করতেন’-ইকবাল করিম ভূঁইয়া

অনলাইন ডেস্ক

১৪ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, তিনি সেনাপ্রধান থাকাকালে বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান তার নির্দেশ অমান্য করতেন। তবে জিয়াউলের বিষয়ে তদন্ত করতে তিনি গোয়েন্দা পরিদপ্তরের কাউকে বলেননি বলেও জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জিয়াউলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল হাসানের জেরায় তিনি এসব কথা বলেন। শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জিয়াউলের বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন সাবেক এই সেনাপ্রধান।

নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ

জেরার একপর্যায়ে আইনজীবী জানতে চান, সেনাপ্রধান হিসেবে জিয়াউল তার কোনো আদেশ অমান্য করেননি-এ বক্তব্য সঠিক কি না। জবাবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘এই কথা সত্য নয়।’

তিনি আরও জানান, দুই সেনা কর্মকর্তার অপকর্ম সংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের সেনাবাহিনীতে ফেরত চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন র‌্যাবের এডিজি (অপস) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জিয়াউল তাদের ফেরত দেননি। এ ঘটনার পর তিনি জিয়াউলকে সেনানিবাসে ‘পারসন নন গ্রাটা (পিএনজি)’ ঘোষণা করেন।

নীতি, দুর্নীতি ও তদন্ত প্রসঙ্গ

জেরায় মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিকীর ২০১২-২০১৫ সময়কালের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে ইকবাল করিম বলেন, তার এখন মনে নেই।

সেনাপ্রধান থাকাকালে কেনাকাটা সংক্রান্ত কোনো দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত হয়েছিল কি না-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত করা হয়নি। আইনজীবী দাবি করেন, তিনি নিজেই ওই কেনাকাটায় জড়িত ছিলেন বলেই তদন্ত হয়নি। এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইকবাল করিম বলেন, ‘এই কথা সত্য নয়।’

সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরের সদস্যদের নাম মনে আছে কি না-এ প্রশ্নে তিনি জানান, মনে নেই। কর্মকর্তাদের অবৈধ অর্থের উৎস শনাক্ত করে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না-জবাবে বলেন, ‘করিনি, কারণ তা আমার এখতিয়ারের বাইরে।’

ক্রসফায়ার, ডিজিএফআই ও অন্যান্য প্রশ্ন

কর্নেল মুজিবকে ক্রসফায়ার বন্ধে কোনো লিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, তিনি মৌখিক আদেশ দিয়েছিলেন।

ডিজিএফআইয়ের সেলে রাজবন্দিদের রাখা হতো কি না-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি সেল পরিদর্শন করেননি। ‘আমি ডিজিএফআই কার্যালয়ে দুদিন গিয়েছিলাম, তবে অফিসের ভেতরের বাইরে যাইনি,’ বলেন তিনি।

র‌্যাবে কর্মরত দুই সেনা কর্মকর্তা ‘কিলিং মিশন’-এ যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ঢাকার সেনানিবাসে ফিরে এমপিও চেকপোস্টে রিপোর্ট করেছিলেন-এমন কোনো ঘটনার কথা মনে আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনে নেই। তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না তাও তিনি জানেন না।

সবশেষে আইনজীবী অভিযোগ করেন, জবানবন্দির মাধ্যমে তিনি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। জবাবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘এই কথা সত্য নয়।’

মামলার শুনানি অব্যাহত রয়েছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom