জাতীয়

শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি সম্ভব নয়: সেনাপ্রধান

অনলাইন ডেস্ক

২ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য যুদ্ধ করা নয়, বরং সম্ভাব্য সংঘাত এড়িয়ে শান্তি নিশ্চিত করা। শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ-এ ক্যাপস্টোন কোর্সের সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, “আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিই যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, সময়মতো প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগ ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে-যেমন এখন বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে বহু গুণ ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ছাড়া কোনো দেশের পররাষ্ট্রনীতি কার্যকর হতে পারে না। সামরিক সক্ষমতা ও কূটনীতি একে অপরের পরিপূরক-এ দুটির সমন্বয়েই জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর

সেনাপ্রধান দেশের নৌ ও বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা অনেক বেশি, তাই বাংলাদেশ নৌবাহিনী-কে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। বর্তমানে পর্যাপ্ত ওপিভি (Offshore Patrol Vessel) না থাকায় ছোট জাহাজ দিয়ে টহল দিতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নয়।

একইভাবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী-র আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট না কেনার বিষয়টি তুলে ধরে আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা সংকট

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জ্বালানি নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে একমাত্র রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এর সক্ষমতা খুবই সীমিত, যার কারণে অধিকাংশ জ্বালানি পরিশোধিত অবস্থায় উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়।

তিনি রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গেও কথা বলেন। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের ফলে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যা দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে।

জবাবদিহিমূলক বাহিনী গড়ার প্রত্যয়

সেনাপ্রধান বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই কাজ চলছে।

তিনি উপস্থিত ফেলোদের সামরিক ও কৌশলগত বিষয়ে আরও আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান, যাতে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom