শিক্ষা

শাহবাগ থানা ঘেরাও, ডিসি মাসুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা দাবি

অনলাইন ডেস্ক

১ মাস আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নাইমুদ্দীনের ওপর কথিত পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার দুপুর ১টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম-এর অপসারণসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ঢাবির এক শিক্ষার্থী ও কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এতে দুজন সাংবাদিক আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসা নেন। একই ঘটনায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বামপন্থি ছাত্রনেতা নাইম উদ্দীন শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গায়ে অন্যায়ভাবে হাত দিলে তার ফল ভালো হবে না। অতীতেও শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে।”

থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী অর্থ বড়ুয়া অভিযানের সমালোচনা করে বলেন, এটি ছিল একটি ‘নাটক’। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ মাদকাসক্ত ব্যক্তি উন্মুক্ত স্থানে মাদক গ্রহণ করে না। তার অভিযোগ, শাহবাগ থানার আশপাশে বড় মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকলেও অভিযানে বড় কোনো চালান ধরা পড়ে না।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, ডিসি মাসুদ আলম অভিযানে গেলে সাইরেন বাজিয়ে ও একাধিক ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ সম্প্রচার করতে করতে যান, যা অভিযানের গোপনীয়তা নষ্ট করে এবং অভিযুক্তদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। তারা একে ‘সেলিব্রেটি পুলিশিং’ হিসেবে আখ্যা দেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পূর্বে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এসে তিনি থানায় পুলিশের দুর্ব্যবহারের শিকার হন এবং তার মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়। থানায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও ফুটেজ নেই বলে দাবি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাইমুদ্দীন বলেন, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। পুলিশ আমার কাছে কিছু পায়নি। তারপরও আমাকে মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত করা হয়েছে।” তিনি জানান, ঘটনার পর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি

১. বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরে সব ধরনের হয়রানিমূলক পুলিশিং অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনি বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শাহবাগ থানার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া ডিসি মাসুদ আলমসহ অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবিও জানান শিক্ষার্থীরা।

তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom