আইন-আদালত

রামিসা হত্যা মামলায় এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চাইলেন আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

৮ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশার জবাব হতে পারে শুধু দ্রুত ও কার্যকর বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি পুলিশ কমিশনার ও স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে আলোচিত আসিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় কার্যকর না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, বিচার দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাও নিশ্চিত করতে হয়।

মন্ত্রী জানান, আসিয়া মামলায় সাত দিনের মধ্যে চার্জশিট এবং এক মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন হয়েছিল। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকায় সময় লাগে। পেপার বুক প্রস্তুতের দীর্ঘ প্রক্রিয়াও বিচার বিলম্বের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নজির রয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, মেজর সিনহা ও আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত পেপার বুক প্রস্তুত করা হয়েছিল। রামিসা মামলাতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা থাকবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে সরকার প্রশাসনিক সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেই মামলাটির বিচার হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

দেশে বিচারজট প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এত বিপুল মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা কঠিন হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।

রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মতো অপরাধকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক মামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে না এবং এ ধরনের মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ নেই।

Dr.Mahfuzul Alom