আইন-আদালত

রামিসা হত্যা মামলায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লড়বেন শিশির মনির

অনলাইন ডেস্ক

১ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আদালতে আইনজীবী হিসেবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ শিশির মনির।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, “শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পরিবারের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব ইনশাআল্লাহ।” তার এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিও নতুন মাত্রা পায়।

নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে ক্ষোভ

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি বাসায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি সমাজের ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়েরও প্রতিচ্ছবি।

ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারসহ অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। পরে আদালতে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এই ঘটনার পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ, মানববন্ধন ও বিচার দাবিতে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস

মামলাটি ঘিরে জনমনে তীব্র উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, তদন্ত দ্রুত শেষ করতে পুলিশকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশার একমাত্র জবাব হতে পারে দ্রুত ও কার্যকর বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও দ্রুত চার্জশিট দাখিলের আশ্বাস দিয়েছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে রাজনৈতিক ও মানবিক-দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। অতীতে আলোচিত কয়েকটি মামলায় দ্রুত বিচার শুরু হলেও উচ্চ আদালতের বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত জটিলতায় রায় কার্যকরে দীর্ঘ সময় লেগেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই জনমনে বিচারহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রামিসা হত্যা মামলাটি এখন শুধু একটি ফৌজদারি মামলাই নয়; এটি রাষ্ট্রের বিচারিক সক্ষমতা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থারও পরীক্ষা। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা, নগর জীবনের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্র কতটা কার্যকর-এই প্রশ্নও সামনে চলে এসেছে।

সামাজিক অবক্ষয় ও রাষ্ট্রীয় দায়

বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সমাজে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক মূল্যবোধ এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তাদের মতে, কেবল বিচারের আশ্বাস নয়, অপরাধ প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগও জরুরি। শিশু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অপরাধ কমানো কঠিন হবে।

Dr.Mahfuzul Alom