আইন-আদালত

আগৈলঝাড়ায় ‘ক্রসফায়ারে’ দুই নেতা হত্যা: হাসানাত আবদুল্লাহসহ পাঁচজনের বিচার শুরু

অনলাইন ডেস্ক

১৪ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল নেতা টিপু হাওলাদার ও সাংস্কৃতিক সংগঠক কবির মোল্লাকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আগামী ১৭ জুন সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি-উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিনকে আদালতে হাজির করা হয়। অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। অন্যদিকে সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহসহ অপর আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, নিহত টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ছিলেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী এবং তারা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের ‘সরিয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা করা হয়।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দুইজনকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কে ‘ক্রসফায়ারের নাটক’ সাজিয়ে তাদের হত্যা করা হয়। এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রসিকিউশন।

আইনি ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, এ মামলাটি শুধু একটি কথিত ক্রসফায়ার হত্যাকাণ্ডের বিচার নয়; বরং অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহারের অভিযোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী অপরাধের কাঠামোর মধ্যে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ “মিথ্যা ও বানোয়াট”। তারা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালেও ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ ও সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা। তারা আদালতকে জানান, মামলায় পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের স্পষ্ট উদাহরণ।

মামলাটি এখন সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে প্রবেশ করায় আগামী দিনগুলোতে এর রাজনৈতিক ও আইনি প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Dr.Mahfuzul Alom