জাতীয়

পল্লবীতে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা: সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে চ্যালেঞ্জের মুখে প্রশাসন

অনলাইন ডেস্ক

১৩ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাধ এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণের দখল হওয়া জমি উদ্ধারে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২০ মে) সকালে শুরু হওয়া এ অভিযানে স্থানীয়দের একাংশের প্রতিরোধের মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পুলিশ সূত্র জানায়, কালসী স্টিল ব্রিজ ও সুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে বস্তিঘর, গ্যারেজ, ভাঙারির দোকান, রাজনৈতিক ক্লাব এবং মাদকের আড্ডা গড়ে তোলা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৫০ বিঘা সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখা হয়।

এই জমি পুনরুদ্ধারে ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে সকাল ১০টা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানের একপর্যায়ে স্থানীয়দের একটি অংশ পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

ঘটনার বিষয়ে মোস্তাক সরকার জানান, উচ্ছেদ কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয়রা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কৌশলগতভাবে সরে যেতে দেখা যায়। পরে দুপুরের পর আবারও অভিযান শুরু করা হয়।

দখলদারিত্ব ও নগর ব্যবস্থাপনার সংকট

বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে সরকারি জমি দখল এবং তা ঘিরে গড়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা এখন নগর ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া, দুর্বল নজরদারি এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এসব এলাকায় অবৈধ স্থাপনা স্থায়ী রূপ নেয়। ফলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় প্রায়ই প্রতিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এর সঙ্গে জড়িত দখলচক্র, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা এবং অপরাধভিত্তিক অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ভাঙতে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Dr.Mahfuzul Alom