জাতীয়

ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটে আগাম প্রস্তুতি

অনলাইন ডেস্ক

১৫ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটগুলোতে শুরু হয়েছে আগাম প্রস্তুতি। সরকারি হিসাবে হাট বসার নির্ধারিত সময় এখনো শুরু না হলেও ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন হাটে গরু এনে জায়গা দখল করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন অস্থায়ী পশুর হাটে বুধবার (২০ মে) থেকেই ব্যাপক সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কুষ্টিয়া থেকে আসা একাধিক খামারি ও ব্যবসায়ী শতাধিক গরু নিয়ে হাট এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন। কেউ ১০টি, কেউ ২০টি, আবার কেউ ৩০টির মতো গরু নিয়ে আগেভাগেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, শেষ মুহূর্তে জায়গা সংকট এবং পরিবহন জটিলতা এড়াতেই তারা আগেই রাজধানীতে চলে এসেছেন।

কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যবসায়ী মো. শামীম জানান, তাদের একটি দল প্রায় ৩০০টি গরু নিয়ে ঢাকায় এসেছে। এসব গরু রাজধানীর উত্তরা, গাবতলী ও কমলাপুর-এই তিনটি বড় হাটে ভাগ করে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, “আগে জায়গা দখল করতে না পারলে পরে হাটে সুবিধাজনক অবস্থান পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।”

অন্যদিকে, দৈতলপুর উপজেলার খামারি লোকমান মিয়া জানান, তাদের আনা সব গরুই দেশি জাতের ও গৃহস্থালি খামারে লালিত। এখনও কোনো গরু বিক্রি হয়নি, তবে শুক্রবার থেকে বেচাকেনা জমে উঠবে বলে আশা করছেন তারা।

আগাম উপস্থিতির পেছনে অর্থনৈতিক বাস্তবতা

বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর পশুর হাটে আগাম অবস্থান নেওয়ার পেছনে শুধু জায়গা দখলের বিষয় নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে পরিবহন ব্যয়, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশলও। হাটের সামনের সারিতে অবস্থান নিতে পারলে তুলনামূলক বেশি দামে পশু বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। এছাড়া ট্রাকভাড়া ও পরিবহন সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই পশু নিয়ে ঢাকায় আসছেন।

এবার রাজধানীতে মোট ২৬টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩টি হাট থাকবে। ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে আনুষ্ঠানিকভাবে পশু কেনাবেচা চলবে।

বাজারে দেশি গরুর প্রাধান্য

এবারের বাজারে দেশি গরুর সরবরাহ তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ কমে যাওয়ায় দেশীয় খামারিরা ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন। একই সঙ্গে ক্রেতাদের মধ্যেও দেশি গরুর প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বাজার পুরোপুরি জমে উঠতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীতে কোরবানির পশুর সরবরাহ, পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

Dr.Mahfuzul Alom