জাতীয়

আনসার-ভিডিপিকে গ্রামীণ উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

১৯ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত আনসার-ভিডিপির সদস্যদের হাত ধরেই বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম একদিন আর্থসামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিণত হবে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বুধবার সমাবেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈষম্যমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ সমাজ গঠনে বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের সাহস, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠা আগামী দিনের রাষ্ট্রগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বাহিনীর ৬৭০ জন শহীদের প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের যেকোনো সংকট ও জাতীয় প্রয়োজনে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সময়োপযোগী ভূমিকা সবসময় প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও স্থানীয় উন্নয়নে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের “ফ্যাসিবাদী শাসন” শেষে বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার নতুন পথে এগোচ্ছে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এই যাত্রায় আনসার-ভিডিপিকে তিনি “রাষ্ট্রের প্রান্তিক পর্যায়ে বিস্তৃত শক্তিশালী সেতুবন্ধন” হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, “আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার”-এই চেতনায় গড়ে ওঠা বাহিনীটি স্থানীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতি এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

পরিবেশ, দুর্যোগ ও কর্মসংস্থানে নতুন ভূমিকার ইঙ্গিত

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শুধু নিরাপত্তা নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও আনসার-ভিডিপির সম্ভাব্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, বন্যা প্রতিরোধ, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের মতো কার্যক্রমে বাহিনীর বিস্তৃত নেটওয়ার্ককে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

এছাড়া শিল্পকারখানা, হাসপাতাল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় বর্তমানে ৫২ হাজারের বেশি অঙ্গীভূত আনসার সদস্য কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তারুণ্যকে “জাতির শক্তির উৎস” আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আনসার-ভিডিপি যে প্রশিক্ষণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি চালু করেছে, তা ভবিষ্যতে উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনে সহায়ক হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আনসার-ভিডিপিকে শুধু সহায়ক নিরাপত্তা বাহিনী নয়, বরং স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক সম্পৃক্ততার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা বাড়ছে। সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ জনশক্তিকে সংগঠিত করে কর্মসংস্থান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নতুন কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।

Dr.Mahfuzul Alom