প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর বিরোধে, সাত কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শিক্ষাক্ষেত্রের সংকট এখনও কাটেনি। প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ‘স্কুলিং মডেল’ ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একই সঙ্গে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করছেন।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) শিক্ষকেরা ঢাকার সাত কলেজে মানববন্ধন পালন করেন। দুপুরে ঢাকা কলেজে প্রথমে কলেজ প্রাঙ্গণে এবং পরে মূল ফটকের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেন তারা। শিক্ষকরা প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর বিরুদ্ধে এবং কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি একাডেমিক ও প্রশাসনিক পদে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেন। ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারের সামনে থেকে তারা মিছিল শুরু করে। সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে কিছুক্ষণ অবস্থান নেয়ার পর মিছিলটি নিউমার্কেটের দিকে চলে যায়। এতে যানজটও সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে মূলত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
২০১৭ সালে যথেষ্ট প্রস্তুতি ছাড়াই ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো প্রস্তাবের কারণে আবারও শিক্ষাক্ষেত্রে সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষক সংগঠনগুলো জানিয়েছেন, ৪ ডিসেম্বর সাত কলেজে কর্মবিরতি (পরীক্ষা আওতার বাইরে) এবং ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহাসমাবেশের আয়োজন করা হবে। এছাড়া, দাবি উপেক্ষা করে অধ্যাদেশ জারি করা হলে দেশের সব সরকারি কলেজ ও দপ্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও প্রস্তাবিত মডেলের বিরোধিতা করছেন। ফলে শিক্ষক, স্নাতক/স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনটি পক্ষ যুক্ত হয়ে পড়েছে।

