রাজনীতি

নির্বাচনের পর দৃশ্যমান আওয়ামী লীগের তৎপরতা, বাড়ছে বিতর্ক

অনলাইন ডেস্ক

৪ দিন আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সাম্প্রতিক তৎপরতা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে আসা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা বৃদ্ধি, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয় খোলার চেষ্টা এবং সাবেক একাধিক সংসদ সদস্যের জামিন-এসব ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত কয়েকজন মধ্যম সারির নেতার দেশে ফেরার খবরও শোনা যাচ্ছে। যদিও কিছু এলাকায় কার্যালয় খুলতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের জনরোষের মুখেও পড়তে হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করায় তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। সে সময় নাশকতার অভিযোগে দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানও পরিচালিত হয়।

তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচনের পরদিন পঞ্চগড়ে আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ের তালা খোলার ঘটনা সামনে আসে। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় খুলে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, স্লোগান দেওয়া এবং নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতেও দলটির কর্মীদের সক্রিয়তা দেখা যায়। আবার কোথাও এসব উদ্যোগের প্রতিবাদে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দলটির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার জামিনে মুক্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আইভী রহমান এবং কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি জামিন পেয়েছেন। এছাড়া বরিশাল, ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন জেলার আরও কয়েকজন সাবেক এমপি ও পদধারী নেতা জামিনে মুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের রাজনৈতিক তৎপরতা পরিচালনার বৈধতা নেই। দলটি সরকারের কাছে এ বিষয়ে স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান দাবি করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অভিযোগ করেছে, ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অলিখিত সমর্থন ছাড়া এসব কার্যক্রম সম্ভব নয়। তারা প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে বিএনপি এসব অভিযোগ নাকচ করেছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে এবং বিষয়টি আইনের আলোকে দেখা হবে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং প্রতিহিংসার রাজনীতিতে আস্থা রাখে না। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তারেক ফজল বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কিছু সমঝোতার ইঙ্গিত মিললেও এটিকে কেন্দ্রীয় বা আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জামিন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এটি আদালতের এখতিয়ার হলেও সরকারি আইন কর্মকর্তাদের ভূমিকা পর্যালোচনার বিষয় হতে পারে।

নির্বাচনপূর্ব সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি বিভিন্ন আশ্বাস ও নির্বাচনের পর কার্যালয় খোলা, প্রকাশ্যে সক্রিয়তা এবং ধারাবাহিক জামিন-সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে ‘অঘোষিত সমঝোতা’ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। সামনে স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে দলটির আরও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।

পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সরকার ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে অগ্রসর হয়-এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom