মিস ইউনিভার্সে সেরা ৩০-এ মিথিলা, সেরার মুকুট মেক্সিকোর ফাতিমা বশের
বিনোদন ডেস্ক
তানজিয়া জামান মিথিলা
১৯ দিনের জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে এবারের সেরার মুকুট উঠেছে মিস মেক্সিকো ফাতিমা বশ–এর মাথায়। বাংলাদেশের প্রতিনিধি তানজিয়া জামান মিথিলা পিপলস চয়েসে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেরা ৩০–এ জায়গা করে প্রতিযোগিতা শেষ করেন।
‘গর্বিত’, বললেন মিথিলা
শুক্রবার দুপুরে ব্যাংকক থেকে প্রথম আলোকে মিথিলা বলেন,
“একটা অসাধারণ জার্নি শেষ হলো। সেরা ৩০–এ জায়গা করতে পেরেছি—এটাই আমাদের জন্য দারুণ গর্বের। পরিবার, ভক্ত এবং সহকর্মীদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, তা আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে।”
প্রায় ১৯ দিনের ক্যাম্পে ফুকেট, পাতায়াসহ থাইল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্পিং, বিচারকদের মূল্যায়ন, পিপলস চয়েস ভোট—সব মিলিয়ে ছিল ব্যস্ত সময়সূচি। রাতভর জেগে থাকা, রিহার্সেল আর নানা প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করেন মিথিলা।
মঞ্চে আত্মবিশ্বাস, তবে নিয়মেই থেমে যাওয়া
প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই বিচারকদের নজরে ছিলেন মিথিলা। ন্যাশনাল কস্টিউম রাউন্ডে বাংলাদেশের জামদানি শাড়ি ও শাপলা ফুল থিমে দারুণ সাড়া পান তিনি। সুইমস্যুট রাউন্ডেও তাঁর পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়।
অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—পিপলস চয়েস ভোটে এগিয়েও তিনি কেন সেরা ৩০-এর পর এগোতে পারলেন না?
নিয়ম অনুযায়ী,
- দর্শক ভোট,
- পারফরম্যান্স,
- তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা,
- উপস্থাপন দক্ষতা,
- বিচারকদের বিশ্লেষণ—
সবকিছু মিলিয়েই তৈরি হয় চূড়ান্ত তালিকা।
শেষ পর্যন্ত সেরা ৩০–এ পৌঁছানোয় ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে মিথিলাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বিতর্ক পেরিয়ে ফাতিমার মুকুট জয়
এবারের প্রতিযোগিতায় নানা বিতর্ক ছিল। প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই মেক্সিকোর ফাতিমা বশকে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অপমানিত করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে অন্যান্য প্রতিযোগীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
তবুও সবকিছু পেছনে ফেলে ২৫ বছর বয়সী এই সমাজকর্মী জিতলেন মিস ইউনিভার্স ২০২৫–এর মুকুট। তাঁকে মুকুট পরিয়ে দেন গতবারের বিজয়ী ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া কেজার থেলভিগ।
প্রথম রানারআপ হয়েছেন মিস থাইল্যান্ড প্রবিনার সিং। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফল ঘোষণার তিন দিন আগে দুই বিচারক পদত্যাগ করেন—এদের একজন নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
‘নতুন মানুষ হিসেবে তৈরি করেছে মিস ইউনিভার্স’
১৯ দিনের ক্যাম্পে অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান মিথিলা—
“সময় ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা, নিজেকে নতুনভাবে তুলে ধরার কৌশল—সবকিছু শিখেছি। এখানে অনেকের সঙ্গে সিস্টারহুড তৈরি হয়েছে। এই অভিজ্ঞতা আমাকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে।”
মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছেন—
“এটি বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস গড়ার মুহূর্ত। অভিনন্দন মিথিলা।”

