আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় অনিশ্চয়তায় প্রায় ৭০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১ মাস আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রভাবে সেখানে অবস্থানরত প্রায় ৭০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। চলমান পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

যুদ্ধাবস্থার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিমান চলাচল স্থগিত বা সীমিত হওয়ায় প্রবাসী কর্মী ও ওমরাযাত্রীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরতে পারছেন না। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় এভিয়েশন খাতেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে বিদেশগামী কর্মী ও ওমরাযাত্রীদের খোঁজখবর নিয়েছেন। অনেককে রাজধানীর উত্তরা এলাকার বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ইফতার ও সাহরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে শত শত বিদেশগমনেচ্ছু কর্মী শেষ পর্যন্ত নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমায় ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বাহরাইন, কুয়েত, দুবাই ও কাতারগামী ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রুটে যাত্রার পরিকল্পনায় থাকা যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্স বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জানার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে অনেক ওমরাযাত্রী সৌদি আরবে আটকে পড়েছেন, যাদের দেশে ফেরার নির্ধারিত সময় ছিল গত কয়েকদিনের মধ্যে। আবার অনেক প্রবাসী কর্মী ছুটিতে দেশে এসে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।

অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় সোয়া কোটি বাংলাদেশি কর্মরত আছেন, যারা নিয়মিত দেশে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ২১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২.৩০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০.৬ শতাংশ বেশি।

জনশক্তি রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সেখানে ১ লাখ ৮ হাজার ১০১ জন বাংলাদেশি কর্মী কাজের সুযোগ পেয়েছেন। একই সময়ে সিঙ্গাপুরে ৯ হাজার ৭২২ জন এবং কাতারে ৯ হাজার ৬৮১ জন কর্মী নিয়োগ পেয়েছেন।

আটাবের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জুমান চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বিভিন্ন রুটে বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় এভিয়েশন খাতও বিপাকে পড়েছে। তিনি দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ ও আকাশসীমা পুনরায় চালুর জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ মাইগ্রেন্টস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের পরিবার দেশে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ দপ্তর এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর আরও সক্রিয় ও সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।

এদিকে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং তেহরানে বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন।

সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাতায়াত সহজ করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মী ও ওমরাযাত্রীদের সহায়তায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছেন।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom