আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় পৌঁছাল প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারে, বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৯ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। বুধবার মার্কিন কংগ্রেসে প্রথমবারের মতো যুদ্ধের সামগ্রিক ব্যয়ের এই আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করা হয়।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির শুনানিতে পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট জানান, এই ব্যয়ের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যবহারে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটির পুনর্গঠন ও মেরামতের সম্ভাব্য ব্যয়ও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন খাতে কত ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

শুনানিতে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ সদস্য অ্যাডাম স্মিথ বলেন, “এই তথ্য প্রকাশ হওয়ায় ভালো লাগছে, কারণ দীর্ঘদিন ধরেই আমরা এই ব্যয়ের হিসাব জানতে চেয়েছিলাম।”

প্রকাশিত তথ্যমতে, এই ২৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় চলতি অর্থবছরে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার মোট বাজেটের সমান। এর আগে একটি সূত্র জানিয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এই ব্যয় “কৌশলগতভাবে প্রয়োজনীয়।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ইরানকে পারমাণবিক বোমা অর্জন থেকে ঠেকাতে আপনি কতটা মূল্য দিতে প্রস্তুত?”

তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধটি এখনো দীর্ঘমেয়াদি জটিল সংঘাতে পরিণত হয়নি। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরোধী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের সমালোচনা করে তাদের অবস্থানকে “দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে মন্তব্য করেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে এবং তিনটি বিমানবাহী রণতরীও অঞ্চলে অবস্থান করছে।

মার্কিন সামরিক সূত্র অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সংঘাতে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষিপণ্য ও সারেও মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে গ্যাসোলিনের দাম গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এদিকে রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন ক্রমশ কমছে। বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ নাগরিক এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন, যা গত মাসের তুলনায় কম।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom