সারাদেশ

ঝিনাইগাতীতে বোরো ধানে বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষক, ন্যায্যমূল্যের দাবি

অনলাইন ডেস্ক

১ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় এবারের বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। মাঠজুড়ে সোনালি ধান থাকলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রিমূল্য কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। মাঠভরা পাকা ধানে ভরে উঠলেও অনিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির কারণে নিচু জমিতে ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে ফসলের ক্ষতির শঙ্কা, অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে কাটা-মাড়াইয়ের খরচও বেড়ে গেছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি বর্তমানে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে। ফলে অনেক কৃষকের হিসাব অনুযায়ী, এক মণ ধানের দাম দিয়েও শ্রমিকের মজুরি মেটানো যাচ্ছে না।

কালিনগড় গ্রামের কৃষক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “বৃষ্টি আর পানিতে সব ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এখন ঘরে তুলব কীভাবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।”

মাঝলিকান্দ গ্রামের কৃষক মগবুল মিয়া বলেন, “হালচাষ, সার, সেচ, কীটনাশক—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। কিন্তু ধানের দাম কম। দোকানের ধার আর ঋণ কীভাবে শোধ করব, সেটা নিয়েই চিন্তায় আছি।”

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছরে উৎপাদন খরচ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, কিন্তু ধানের বাজারদর সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে লাভ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের টাকাও উঠছে না।

এ অবস্থায় দ্রুত সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার দাবি জানিয়েছেন কৃষকেরা। তাদের মতে, সরকার নির্ধারিত দামে ধান কিনলে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। তিনি বলেন, “এবার ফলন ভালো হয়েছে, তবে বাজারদর নিয়ে কৃষকেরা উদ্বিগ্ন। আগামী সপ্তাহে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে।”

তিনি কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ৮০ শতাংশ ধান পাকলেই দ্রুত কেটে ফেলতে হবে, কারণ শিলা বৃষ্টি বা অতিবৃষ্টিতে ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।

কৃষকেরা মনে করছেন, উৎপাদন বাড়লেও যদি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কৃষিতে আগ্রহ কমে যেতে পারে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom