রাজনীতি

ইসলামী ব্যাংক, জামায়াতের ভূমিকা ও মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি: নানা ইস্যুতে সরব সংসদ

দ্যা সিটি সিগন্যাল ডেক্স

৮ ঘন্টা আগে


ইসলামী ব্যাংক, জামায়াতের ভূমিকা ও মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি: নানা ইস্যুতে সরব সংসদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশন কেবল আয়-ব্যয়, কর কিংবা বরাদ্দের চেনা বৃত্তে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সদ্য সমাপ্ত বাজেট আলোচনায় দেশের ব্যাংক খাতের অস্থিরতা, ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা, সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরসহ নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু নিয়ে বেশ সরব ছিলেন সংসদ সদস্যরা।


​সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন শুরু হওয়া এই অধিবেশনে বাজেটের ওপর মোট ৪৮ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূরক বাজেটের ওপর ৩ ঘণ্টা ৩ মিনিট এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটের ওপর ৪৫ ঘণ্টা ৫১ মিনিট আলোচনা হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে গত ৩০ জুন সংসদ কর্তৃক বাজেট পাস হলেও অধিবেশন এখনো সমাপ্ত হয়নি; আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত বৈঠক মুলতবি করা হয়েছে।
​এবারের বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাসহ মোট ২৯১ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। যার মধ্যে সরকারি দলের সদস্য ছিলেন ২০০ জন এবং বিরোধী দলের ৯১ জন।
​বাজেট নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের দ্বিমুখী অবস্থান


​সংসদের কার্যবিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাজেট আলোচনায় সরকারি দলের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং প্রস্তাবিত বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটকে তাঁরা বৃহৎ, জনকল্যাণমুখী এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিবান্ধব হিসেবে অভিহিত করেন। তাঁদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর কমানোর প্রস্তাব সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি মানুষের জীবনমান উন্নত করবে।
​অন্যদিকে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এই বাজেটকে ‘অতি উচ্চাভিলাষী’ ও ‘ঋণনির্ভর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, বড় আকারের বাজেট পেশ করার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর সঠিক বাস্তবায়ন। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ঋণের বোঝা হ্রাস, রাজস্ব আহরণ ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সাধারণ মানুষ বাজেটের সুফল পাবে না। এছাড়া, বিরোধী দল থেকে সুদমুক্ত ও জাকাতভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা এবং অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়।


​স্বাস্থ্য খাত ও স্থানীয় উন্নয়ন
​আলোচনায় দেশের স্বাস্থ্য খাত বিশেষ গুরুত্ব পায়। হাসপাতালের শয্যা ও বরাদ্দ বৃদ্ধির উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তীব্র চিকিৎসক-সংকট এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্যরা। এর পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় রাস্তাঘাট সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও কৃষি প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে সাংসদদের বক্তব্যে।
​একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে তুমুল বিতর্ক
​চলতি অধিবেশনে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বর্তমান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা। বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলামসহ একাধিক সদস্য একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী এই দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি তোলেন।


​খোদ সরকারি দলের শীর্ষ পর্যায় থেকেও জামায়াতের তীব্র সমালোচনা করা হয়। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “স্বাধীনতাযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকার জন্য দলটির জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। এখনো সেই সুযোগ রয়েছে। একাত্তরের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিলে জামায়াতের রাজনীতি করা সহজ হবে।” একই সঙ্গে তিনি এনসিপিকে ইঙ্গিত করে স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দলের সঙ্গে জোট করার নীতি পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।
​স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জামায়াতের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, “১৯৯০ ও ২০২৪ সালে আপনাদের (জামায়াত) কিছু ভূমিকার স্বীকৃতি আমরা দিই। কিন্তু ইতিহাসের যে অংশগুলো আপনাদের পক্ষে যায় না, সেগুলো ভুলে গেলে চলবে না।”


​এর জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম সরাসরি একাত্তরের ভূমিকার ব্যাখ্যা না দিলেও পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, “জামায়াত না থাকলে দেশের এই রাজনৈতিক শূন্যতা কে পূরণ করবে?” একই সঙ্গে সরকার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছে কি না-এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
​সব মিলিয়ে, অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের বাজেট অধিবেশনটি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আগামী ৭ জুলাই অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে অন্যান্য বিল ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


উন্নয়নে বৈষম্য হলে ‘বাঘের গর্জন’ করা হবে: শফিকুর রহমান
উন্নয়নে বৈষম্য হলে ‘বাঘের গর্জন’ করা হবে: শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, উন্নয়ন বরাদ্দে সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের তুলনায় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কম বরাদ্দ পাচ্ছেন। এ ধরনের বৈষম্য অব্যাহত থাকলে প্রয়োজন হলে ‘বাঘের গর্জন’ করা হবে।শুক্রবার সকালে নেত্রকোনা সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক...

৬ ঘন্টা আগে


জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত করল জামায়াত ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ, সরকারের ভূমিকার সমালোচনা
জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত করল জামায়াত ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ, সরকারের ভূমিকার সমালোচনা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমি কবরস্থানে জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নেতারা।বৃহস্পতিবার সকালে মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির...

১ দিন আগে


‘সিন্ডিকেটের হুমকিতে ভয় পাই না, প্রবাসীদের স্বার্থে লড়াই চলবে’ : ডা. শফিকুর রহমান
‘সিন্ডিকেটের হুমকিতে ভয় পাই না, প্রবাসীদের স্বার্থে লড়াই চলবে’ : ডা. শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণের দাবি সংসদে তোলার পর একটি সিন্ডিকেট তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তবে জনগণের স্বার্থে কথা বলতে গিয়ে কোনো হুমকি বা চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করবেন না বলে জানিয়েছেন।বুধবার (১ জুলাই) জাতীয়...

২ দিন আগে


গণভোটের রায় না মানায় রাজনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান
গণভোটের রায় না মানায় রাজনীতিতে সংকট তৈরি হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করায় দেশের রাজনীতিতে সংকট সৃষ্টি হয়েছে।বুধবার সকালে রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসরের জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা

২ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom