জাতীয়

গাছের আড়ালে ‘অন্ধ’ ইসির আড়াই কোটি টাকার সিসি ক্যামেরা

অনলাইন ডেস্ক

১৩ ঘন্টা আগে


গাছের আড়ালে ‘অন্ধ’ ইসির আড়াই কোটি টাকার সিসি ক্যামেরা

ছবি: সংগৃহীত


নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্বাচন ভবন ও আশপাশে স্থাপন করা শতাধিক আধুনিক সিসি ক্যামেরার কার্যকারিতা শুরুতেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় সিটি করপোরেশনের লাগানো বড় গাছগুলো ক্যামেরার দৃষ্টিসীমা আড়াল করে রাখায় নির্বাচন ভবনের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কার্যকরভাবে নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ফলে নির্বাচন ভবনের বাইরে কোনো নাশকতা, হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ বা অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গাছ অপসারণের জন্য সিটি করপোরেশনকে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন। তবে পরিবেশবিদরা এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করে একে পরিকল্পনার দুর্বলতা এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

নিরাপত্তা জোরদারে বড় বিনিয়োগ

নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শাখার উদ্যোগে আইডিয়া প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ১২০টি আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচন ভবন ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।

নির্বাচন ভবনের চারপাশ, বিভিন্ন প্রবেশপথ, ওয়াচ টাওয়ার, লেকপাড় এবং ভবনের অভ্যন্তরের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোকে নজরদারির আওতায় আনতে ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার ও সচিবের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতেও বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গাছে আটকে গেছে নজরদারি

প্রকল্প বাস্তবায়নের পর দেখা যায়, নির্বাচন ভবন এবং ইটিআই ভবনের বাইরের বিভিন্ন স্থানে সিটি করপোরেশনের লাগানো বড় গাছ ক্যামেরার দৃষ্টিসীমা আংশিক বা পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে ক্যামেরাগুলো প্রযুক্তিগতভাবে সচল থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে বাইরের এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারছে না।

ইসির কর্মকর্তাদের মতে, নিরাপত্তা ঝুঁকির দিক থেকে এটি বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা। নির্বাচন ভবনের বাইরের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ধারণ বা অপরাধী শনাক্ত করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

গাছ কাটার চিন্তা, পরিবেশবিদদের আপত্তি

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই কমিশনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ক্যামেরার কার্যকারিতা বাড়াতে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তবে পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ শরীফ জামিল মনে করেন, প্রকল্প পরিকল্পনার সময়ই আশপাশের পরিবেশ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য, গাছের কারণে যদি ক্যামেরা অকার্যকর হয়ে থাকে, তাহলে সেটি প্রকল্প পরিকল্পনার ব্যর্থতা। এ অবস্থায় গাছ অপসারণের উদ্যোগ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে আসবে।

পুরোনো ক্যামেরার অবস্থাও উদ্বেগজনক

নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরেকটি দুর্বল দিকও সামনে এসেছে। নির্বাচন ভবন ও ইটিআই ভবনে আগে থেকেই ১৫২টি সিসি ক্যামেরা ছিল। এর মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে ১১২টি, আর ৪০টি অচল অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরোনো ক্যামেরাগুলোর কার্যকারিতা কমে গেছে।

তাদের আশঙ্কা, নতুন স্থাপিত ক্যামেরাগুলোরও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে একই পরিণতি হতে পারে।

নিরাপত্তা নাকি পরিকল্পনার ঘাটতি?

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপনের আগে ক্যামেরার অবস্থান, দৃষ্টিসীমা, পরিবেশগত প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ-সব বিষয়ই সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অন্যথায় ব্যয়বহুল প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে না।

তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল প্রযুক্তিগত নয়, বরং প্রকল্প পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও তদারকির সমন্বয় ঘাটতির বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন নির্বাচন কমিশনের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ-একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।


‘জামায়াতের ইশতেহারে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার কথা নেই’-সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘জামায়াতের ইশতেহারে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার কথা নেই’-সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতেহারে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার কোনো ঘোষণা নেই। তিনি দাবি করেন, দলটি তাদের আগের রাজনৈতিক অবস্থান থেকেও অনেক পরিবর্তিত হয়েছে।রোববার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারের কোথাও শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার কথা নেই। আপনারা

২ ঘন্টা আগে


টেকনিক্যাল ত্রুটিতে বন্ধ দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র, সঞ্চালন থেকে কমেছে ৩ হাজার মেগাওয়াট: জ্বালানিমন্ত্রী
টেকনিক্যাল ত্রুটিতে বন্ধ দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র, সঞ্চালন থেকে কমেছে ৩ হাজার মেগাওয়াট: জ্বালানিমন্ত্রী

টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে দেশের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এর ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায়, এমনকি রাজধানী ঢাকাতেও সাময়িক লোডশেডিং দিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বক্তব্যে

২ ঘন্টা আগে


‘জুলাই জাদুঘর অবিলম্বে খুলে দিতে হবে’-তাজুল ইসলাম
‘জুলাই জাদুঘর অবিলম্বে খুলে দিতে হবে’-তাজুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জুলাই জাদুঘর দ্রুত জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “জুলাই জাদুঘর হাসিনার ফ্যাসিবাদী বর্বরতা, পৈশাচিকতা এবং একই সঙ্গে জুলাইয়ের অবিস্মরণীয় বিপ্লবের বাস্তব প্রতিচিত্র। জুলাই জাদুঘর অবিলম্বে খুলে দিতে হবে।”তাজুল ইসলামের এই বক্তব্য...

৪ ঘন্টা আগে


সংসদে কুরআনের আয়াতের নম্বর ভুল সংশোধনে জামায়াত এমপিকে ধন্যবাদ জানালেন সরকার দলের হুইপ
সংসদে কুরআনের আয়াতের নম্বর ভুল সংশোধনে জামায়াত এমপিকে ধন্যবাদ জানালেন সরকার দলের হুইপ

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করতে গিয়ে সূরা ও আয়াত নম্বরের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। পরে জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তুলে ধরে সংশোধন করলে সরকারদলীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু তা গ্রহণ করে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ...

৬ ঘন্টা আগে

Dr.Mahfuzul Alom