দিল্লির রাজপথে ককরোচ জনতা পার্টি, নড়বড়ে নরেন্দ্র মোদির গদি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন ঘিরে দিল্লি পুলিশের প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমে কয়েক শ মানুষের উপস্থিতি হবে বলে ধারণা করা হলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আন্দোলন পরিণত হয় বিশাল জনসমাবেশে। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ কয়েকটি দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেয়। আন্দোলনের শুরুতে যন্তর মন্তরে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ৫০০ জনের উপস্থিতি ছিল। তবে ১৮ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুককে সফদারজং হাসপাতালে নেওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ জুলাই সন্ধ্যার মধ্যে দিল্লি ও ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ যন্তর মন্তরে জড়ো হন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশের ধারণা ছিল, পরদিন অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সাত থেকে আট হাজারে পৌঁছাতে পারে। সেই হিসাব ধরে প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য এবং প্যারামিলিটারি বাহিনীর ৩২টি কোম্পানি মোতায়েন করা হয়। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও বসানো হয় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড।
তবে সোমবার সকালে পরিস্থিতি পুলিশের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে যায়। যন্তর মন্তরেই প্রায় ১৫ হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। আর দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের সংখ্যা মিলিয়ে তা প্রায় ৫০ হাজার বা তারও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ সংসদ ভবনের কাছাকাছিও পৌঁছে যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি পুলিশ জরুরি ভিত্তিতে শহরের ১৪টি এলাকা থেকে অতিরিক্ত বাহিনী ডাকে। প্রতিটি এলাকা থেকে একজন সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং প্রায় ১০০ জন পুলিশ সদস্যকে ঘটনাস্থলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনের আয়োজকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালানো হয়। সীমিত পরিসরে মিছিল এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিন দফা আলোচনার পরও কোনো সমাধান হয়নি।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের প্রধান লক্ষ্য ছিল আন্দোলনকারীদের সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়া ঠেকানো। শুরুতে কাঁদানে গ্যাস ও সীমিত বলপ্রয়োগ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
একপর্যায়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ পুলিশের দিকে বোতল, জুতা, পাথর ও গাছের ডাল নিক্ষেপ করেন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। কয়েকটি স্থানে ছত্রভঙ্গ হওয়ার পরও আন্দোলনকারীরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে পুলিশের মুখোমুখি হন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যন্তর মন্তরের এই আন্দোলন এখন শুধু একটি দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান এবং সরকারি জবাবদিহি নিয়ে বৃহত্তর জনঅসন্তোষের প্রতিফলন হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংখ্যা ও বিস্তার নিয়ে দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক মূল্যায়ন কতটা সঠিক ছিল, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকারের সঙ্গে আলোচনায় রাজি নয় ককরোচ জনতা পার্টি, নিরপেক্ষ স্থানে সংলাপের দাবি
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চলমান আন্দোলনের মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে আলোচনায় বসতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তবে সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, যেকোনো আলোচনা হতে হবে দিল্লির যন্তর মন্তর অথবা অন্য কোনো নিরপেক্ষ স্থানে।বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জিতেন্দ্র...
৮ ঘন্টা আগে
‘আন্দোলনের নামে ভারতকে বাংলাদেশ বা পাকিস্তান বানানোর চেষ্টা হচ্ছে’: দিলীপ ঘোষ
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় চলমান আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তার দাবি, আন্দোলনের নামে ভারতকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল বা শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে সেই চেষ্টা সফল হবে না।বৃহস্পতিবার (২৩...
৯ ঘন্টা আগে
প্রশ্নপত্র ফাঁস আন্দোলনে রাহুলের ভূমিকার সমালোচনা সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রীর
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা সংস্কার ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ভূমিকার সমালোচনা করেছেন আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন,...
৯ ঘন্টা আগে
দিল্লির ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে পোস্ট মুছতে আইআইটি মাদ্রাজের নির্দেশ
দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট ও ভিডিও সরিয়ে ফেলতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) মাদ্রাজ।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষার্থী দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে ভিডিও ও বিভিন্ন পোস্ট প্রকাশ করেছিলেন। পরে সেগুলো মুছে
৯ ঘন্টা আগে
