সারাদেশ

ধানের শীষে ভোট না দিলে ‘রেহাই নেই’: বিএনপি নেতার হুমকি

অনলাইন ডেস্ক

৩ মাস আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির এক নেতার হুমকিমূলক বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের আগে এমন বক্তব্য সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নির্বাচনী প্রচারণাকালে সোনারগাঁও থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন প্রকাশ্যে হুমকিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বিকেল ৪টার দিকে সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট সাদিপুর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীক ছাড়া অন্য কোনো প্রতীকে ভোট দিলে নির্বাচনের পর কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।

ওই বক্তব্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গত দুই দিন ধরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে।

ভিডিওতে বক্তব্যের সময় সভাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু জাহের, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমেদ, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক বাবুল আহমেদ, যুবদল নেতা রাকিব হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি থেকে পদত্যাগী পৌরসভার আহ্বায়ক ওমর ফারুক টিটু, তার ভাই ওসমান গণি রিতুসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মীকে।

স্থানীয় ভোটাররা জানান, এ ধরনের হুমকিমূলক বক্তব্য স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। অনেক ভোটার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ভোটের আগে এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী অঞ্জন দাস বলেন, একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। বিষয়টি নিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত সোনারগাঁও থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি মূলত আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে একটি উঠান বৈঠক করেছিলেন। তার দাবি, কিছু আত্মীয় প্রকাশ্যে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে থাকলেও গোপনে অন্য প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছিলেন। সে কারণেই তিনি তাদের ‘শাসন’ করেছেন, তবে এটি সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে ছিল না।

এদিকে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আসিফ আল জিনাত জানান, হুমকির ভিডিওটি তার নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom