আন্তর্জাতিক

বিশ্ব যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে ইরান যুদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১ মাস আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


পারমাণবিক কর্মএমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।সূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসায় বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে দ্রুত এগোচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের যুদ্ধ-এর পর সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে ওয়াশিংটন-

উপসাগরীয় দেরাইল মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমঝোতার চেয়ে যুদ্ধের ঝুঁকিই বেশি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েল সরকার মনে করছে বর্তমানে একটি অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতিও নিচ্ছে তারা। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। গত বছরের জুনে দুই দেশ মিলে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল; নতুন করে হামলা হলে তা হবে এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বড় অভিযান।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও ইরান-বিশেষজ্ঞরা  বলেন, উভয় পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে। তার মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ত্রুম্প বিপুল সামরিক শক্তি মোতায়েন করার পর খুব সাধারণ কোনো চুক্তি নিয়ে ফিরে আসতে পারবেন না, কারণ এতে তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার হামলা চালানো হলে পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

এদিকে সুইজারল্যান্ডের –তে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত আলোচনায় ‘নির্দেশনামূলক নীতি’ নিয়ে ঐকমত্যের দাবি করা হলেও মূল সংকটগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। ওমানি মধ্যস্থতাকারীরা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নিয়ে তেহরানে গেলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  তা আলোচনায় তুলতেই রাজি হননি বলে জানা গেছে।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে অনড় অবস্থান নেওয়ায় ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানকে হয় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, নতুবা ‘খুব খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হামলার জন্য তিনি ১০ থেকে ১৫ দিনের একটি প্রচ্ছন্ন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, কোনো হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা, সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমেই ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অচল করার চেষ্টা করবে। এরপর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে দেশটির এর নৌবাহিনী। এই বাহিনীই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুয বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে হয়ে থাকে।

তবে ইউরোপীয় ও আরব দেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের ‘চূড়ান্ত লক্ষ্য’ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তাদের প্রশ্ন-সম্ভাব্য হামলার উদ্দেশ্য কি কেবল ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, নাকি সরাসরি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই–এর নেতৃত্বে পরিচালিত রাজনৈতিক কাঠামোতে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। খামেনির উপদেষ্টা জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) আরও বিস্তৃত তদারকির সুযোগ দিতে প্রস্তুত।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে ইরানের সার্বভৌম অধিকার হিসেবে দেখেন খামেনি। ফলে এ বিষয়ে বড় কোনো ছাড় দেওয়া হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

এদিকে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী  ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এর বৈঠকের পর পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom