১০ সন্তান থাকতেও গাছতলায় আশ্রয় বৃদ্ধ দম্পতির
অনলাইন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
বরগুনার তালতলী উপজেলায় ১০ সন্তান থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধ বাবা-মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে অসহায় ওই দম্পতির আশ্রয় হয়েছে বাড়ির সামনে একটি গাছের নিচে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের বড় ভাইজোড়া গ্রামের বাসিন্দা আমজেদ হাওলাদার ও তার স্ত্রী রওশনারা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছেলে ছগীর হাওলাদারের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বয়সজনিত কারণে রওশনারা বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং নিয়মিত সেবা-শুশ্রূষার প্রয়োজন হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাছের নিচে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সন্তানদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আমজেদ হাওলাদার। পাশে অসুস্থ অবস্থায় বসে আছেন তার স্ত্রী রওশনারা বেগম। ভিডিওতে আমজেদ হাওলাদার অভিযোগ করেন, অসুস্থ স্ত্রীর সেবা-শুশ্রূষা করতে অনীহার কারণেই তাদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
তবে ছোট ছেলের স্ত্রী রোকেয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শাশুড়ি ঘরে মলমূত্র ত্যাগ করায় তাকে পরিষ্কার করে সাময়িকভাবে বাইরে বসানো হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন, পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃদ্ধ দম্পতি পর্যায়ক্রমে সন্তানদের বাড়িতে থাকবেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমজেদ হাওলাদারের তিন ছেলে ও সাত মেয়ে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছেলেরা আলাদা সংসার করছেন। বৃদ্ধ দম্পতির দেখভাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বড় ছেলে কাদের হাওলাদার বলেন, “বাবাকে কখনও ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়নি। মা অসুস্থ থাকায় তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পর বাইরে বসানো হয়েছিল। বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
অন্যদিকে মেজ ছেলে খলিল হাওলাদার অভিযোগ করেন, ছোট ভাইয়ের পরিবারই তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছে। তিনি বলেন, “মাকে ঘর থেকে বের করে গাছের নিচে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।”
ঘটনার পর স্থানীয়দের পরামর্শে আমজেদ হাওলাদার তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বৃদ্ধ দম্পতিকে পুনরায় ঘরে ওঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাদের ঘরে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এখনো পুরোপুরি মীমাংসা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় মানবিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বৃদ্ধ দম্পতির যথাযথ দেখভাল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
পঞ্চগড়ে ঈদ মেলায় সংঘর্ষ, চুরি ও অনিয়মের অভিযোগ; বন্ধের নির্দেশ
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের সোনাহার মহাবিদ্যালয় মাঠে ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনাহার আনন্দ মেলা ও কুটির শিল্প মেলা’কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, চুরি এবং অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন মেলাটি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন বিকেলে মেলায় মোটরসাইকেল প্রবেশকে কেন্দ্র...
১০ ঘন্টা আগে
জেল থেকে আসামিদের বের করে ‘পুশইনের’ চেষ্টা, সীমান্তে নতুন উদ্বেগ
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান তৎপরতার মধ্যে কিছু ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কারাবন্দি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব...
১৩ ঘন্টা আগে
অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ১১ জনের ৩৬ ঘণ্টা মানবেতর জীবন, পতাকা বৈঠকেও মেলেনি সমাধান
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের শিকার ১১ জন নারী, পুরুষ ও শিশু ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও এখনো কোনো সমাধান না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।রোববার (৭ জুন) বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা খোলা আকাশের...
১ দিন আগে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ৪৫
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় মিছিলে ব্যবহৃত তিনটি মাইক্রোবাস ও দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে।রোববার (৭ জুন) দুপুরে কুমিল্লার মাটিয়ারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি যানবাহনে করে আসা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হঠাৎ মহাসড়কে
১ দিন আগে
