যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই শেষ হলো ইরান যুদ্ধ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের একমাত্র সমাপ্তি হতে পারে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’। কিন্তু যুদ্ধের শেষ অধ্যায়ে এসে বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও প্রাথমিক সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে-শেষ পর্যন্ত কি ওয়াশিংটনকেই আপস করতে হয়েছে?
ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান-সংক্রান্ত নতুন চুক্তি রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থি অংশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। রক্ষণশীল ভাষ্যকার এরিক এরিকসন মন্তব্য করেছেন, ‘ট্রাম্প ইরানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।’ সিনেটর টেড ক্রুজ অভিযোগ করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি রাষ্ট্রকে আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে, যাকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে সিনেটর বিল ক্যাসিডি একে সাম্প্রতিক দশকের অন্যতম বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল বলে অভিহিত করেছেন।
সমালোচকদের দাবি, এই সমঝোতার ফলে ইরান অবরুদ্ধ বিপুল পরিমাণ অর্থে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে, দেশ পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে সীমিত রাজস্ব আদায়ের পথও খুলে যাচ্ছে।
তবে অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গিও সামনে এসেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, সবচেয়ে বড় ভুল ছিল যুদ্ধ শুরু করা, যুদ্ধ শেষ করা নয়। তাদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রাণহানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ত। সেই বাস্তবতায় যুদ্ধবিরতি ছিল একটি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত।
ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, চুক্তি না হলে যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হতে পারত এবং হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে চালু করা সম্ভব হতো না। তার ভাষায়, তিনি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানোর জন্যই সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনেকের মূল্যায়ন, আলোচনার টেবিলে ইরান তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাধিক বিষয়ে ছাড় দিতে হয়েছে। যদিও এই মূল্যায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে এবং সংঘাতে প্রকৃত বিজয়ী কে-তা নিয়েও বিতর্ক অব্যাহত।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করে ২০১৮ সালে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি গ্রহণ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু কয়েক বছর পর সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক উত্তেজনার পরও ইরানকে সম্পূর্ণভাবে নতি স্বীকার করানো সম্ভব হয়নি। বরং শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমঝোতার পথেই ফিরতে হয়েছে।
যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিয়েছে সাধারণ মানুষ। উভয় পক্ষের প্রাণহানি, অর্থনৈতিক ক্ষতি, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা এই সংঘাতের স্থায়ী প্রভাব হিসেবে রয়ে গেছে। তাই অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো-মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সংকটের টেকসই সমাধান সামরিক সংঘাতে নয়, বরং কূটনীতি ও আলোচনার মধ্যেই নিহিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের একাংশ এই সমঝোতাকে কৌশলগত পশ্চাদপসরণ হিসেবে দেখলেও অন্যরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসাই ছিল বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। ফলে ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি শুধু একটি যুদ্ধবিরতির ঘটনা নয়; এটি শক্তির রাজনীতি, কূটনৈতিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণেরও প্রতিফলন।
ভারতের ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস নিয়ে জারদারির মন্তব্যে উত্তেজনা, নয়াদিল্লির কড়া প্রতিক্রিয়া
ভারতে ঐতিহাসিক মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তবে তাঁর এ মন্তব্যকে “অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জারদারি দাবি করেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। তিনি বিশেষভাবে ভারতের
১ ঘন্টা আগে
কলকাতায় রাস্তা বন্ধ করে মোদির যোগব্যায়াম, বিতর্কে রেড রোডের আয়োজন
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর অংশগ্রহণে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৃহৎ যোগব্যায়াম কর্মসূচি। এ উপলক্ষে দীর্ঘ সময় ধরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক বন্ধ রাখা হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।রোববার সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষ যোগ দেন। বিশেষ এ আয়োজনকে কেন্দ্র...
২ ঘন্টা আগে
ভারতের নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো তিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ
ভারতের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক নৌযান আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। রোববার কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাহাজ তিনটির কমিশনিং ঘোষণা করেন।নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়া নতুন তিনটি জাহাজ হলো স্টিলথ ফ্রিগেট আইএনএস ডুনাগিরি, হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ আইএনএস সংশোধনক এবং...
৩ ঘন্টা আগে
লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার অভিযোগ এনে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান অভিযোগ করেছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, হরমুজ...
২১ ঘন্টা আগে
