যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মাঝামাঝি পথে হাঁটছে ভারত—কারণ কী?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সদ্যসমাপ্ত নয়াদিল্লি সফর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটাই ছিল পুতিনের প্রথম ভারত সফর, যা ঘটল এমন এক সময়ে যখন দিল্লি–ওয়াশিংটন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের আলোচনায় ব্যস্ত।
রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং তেল বাণিজ্যে জটিলতার কারণে ভারত মস্কো থেকে তেল কেনা কমালেও পুতিনকে লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে দিল্লি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে—ভারত কোনো একক গোষ্ঠীর প্রতি নতজানু নয়, বরং নিজস্ব স্বার্থের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগতভাবে বিমানবন্দরে গিয়ে পুতিনকে অভ্যর্থনা জানানো সেই কূটনৈতিক সংকেতকে আরও জোরালো করেছে।
দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা অংশীদার ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক এখনো দৃঢ়। রাশিয়ার এস–৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাকিস্তান সীমান্তে ভারতকে বড় সহায়তা দিয়েছে বলে নয়াদিল্লির দাবি। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেশ জোরদার হয়েছে, মস্কোর সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধন এখনো অটুট।
পুতিন সফরের আগে ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের সমালোচনামূলক নিবন্ধ ভারতের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ালেও দিল্লি তা সংযতভাবে মোকাবিলা করেছে—ইইউ–এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির আলোচনাও চলছে সমান্তরালভাবে।
রাশিয়া–ভারত দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার কোটি ডলার বাণিজ্যের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তা অর্জন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। তবু নয়াদিল্লি বিশ্বাস করে, বৈশ্বিক উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখলে সেটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মোদি ইতোমধ্যেই পুতিনকে জানিয়েছেন—ভারত নিরপেক্ষ নয়, বরং শান্তির পক্ষে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রোলার কোস্টারে চড়ার মতোই অনিশ্চিত হয়েছে। কোয়াড জোটও ট্রাম্পের অস্থির সিদ্ধান্তে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করলেও মোদির একই আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে ভারতকে তার প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন—সব পক্ষের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। কোনো এক ঝুঁকিপূর্ণ ঝুঁড়িতে সব ডিম রাখার মতো ভুল নয়াদিল্লি কখনোই করতে চায় না।

