সারাদেশ

সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন না পেয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস বিএনপি নেত্রী শাহানা আক্তারের

অনলাইন ডেস্ক

৫ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহানা আক্তার শানু সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও হতাশার কথা তুলে ধরে তিনি দলের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন-“আর কত ত্যাগ স্বীকার করলে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন মিলবে?”

মঙ্গলবার রাতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি তার ৩৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনের নানা অধ্যায় তুলে ধরেন এবং দলের কাছে নিজের মূল্যায়নের দাবি জানান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ

শাহানা আক্তার লেখেন, ১৯৮৭ সালে সোনাগাজী কলেজ সংসদের সম্পাদক পদে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। এরপর ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ১৯৯২ সালে বদরুন্নেসা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, ওই সময়ে তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের হারিয়ে শিরোনামেও আসেন। পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার কথাও উল্লেখ করেন।

নির্যাতন ও পারিবারিক ক্ষতির অভিযোগ

স্ট্যাটাসে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক জীবনে তিনি ও তার পরিবার একাধিকবার হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। জয়নাল হাজারীর সময়কার নির্যাতন, বাড়িতে হামলা, এবং তার বৃদ্ধ পিতার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরাও নানা সময় হয়রানির শিকার হয়েছেন।

দলের প্রতি হতাশা ও প্রশ্ন

শাহানা আক্তার বলেন, “যে নেতাকর্মীদের গড়ে তুলেছি, তাদের মুখে এখন কী জবাব দেব-এই প্রশ্ন আমাকে কষ্ট দিচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এবারের মনোনয়নসহ মোট চারবার তিনি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

তিনি দলের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, “আর কত ত্যাগ স্বীকার বা কীভাবে মাঠে থাকলে সংরক্ষিত আসনে মনোনীত করা হবে?”

রাজনৈতিক মূল্যায়নের দাবি

তিনি দাবি করেন, সংরক্ষিত আসন নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যা সবার মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টন করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান মনোনীতদের যোগ্যতা নিয়েও কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করেন এবং তাদের শুভকামনা জানান।

দলীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান

স্ট্যাটাসে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ২০০৯ সালে দলের প্রধান নেত্রী তার প্রতি ভবিষ্যতে মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি এখনো দলের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করেন এবং আনুগত্য বজায় রেখেছেন।

শেষে তিনি দলের কাছে দ্রুত তার মূল্যায়নের আহ্বান জানান, যাতে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগের স্বীকৃতি পান এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পান।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom