আন্তর্জাতিক

পুতিনের দিল্লি সফরের আগেই ভারত–রাশিয়ার সামরিক চুক্তি অনুমোদন, বাড়ছে কৌশলগত সহযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩ মাস আগে


{news.title}

নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুদিনের সফরে ভারত যাচ্ছেন। এর ঠিক আগেই ভারতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তি—‘রেসিপ্রোকাল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক সাপোর্ট’ বা রেলোস চুক্তি—অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট ড্যুমা। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক বাহিনী পরস্পরের দেশে অবস্থানকালে সামরিক পরিকাঠামো, বন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন পুতিন। তাঁর সফরে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রেলোস চুক্তি: সামরিক সহযোগিতায় নতুন মাত্রা

চুক্তিটি চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সই হলেও মঙ্গলবার স্টেট ড্যুমার চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। স্পিকার ভ্যাচেস্লাভ ভোলোদিন বলেন, ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক “সার্বিক এবং কৌশলগত”—এ চুক্তি দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামরিক সহযোগিতা আরও বাড়াবে।

চুক্তির আওতায়—

  • সামরিক বাহিনীর সদস্য, অস্ত্রশস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমান পাঠানো যাবে
  • পরস্পরের সামরিক ঘাঁটি, বন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার করা যাবে
  • যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বয় বাড়বে

রাশিয়ার মন্ত্রিসভার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই চুক্তি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও কৌশলগত আস্থা আরও দৃঢ় করবে।

আরও সামরিক চুক্তির সম্ভাবনা

রাশিয়ার ফার্স্ট ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ডেনিস মন্তুরেভ জানিয়েছেন, ভারত–রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা শুধু অস্ত্র কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং যৌথ উৎপাদন, গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময়ে আরও গভীরতা পাবে।

ভারতের সামরিক সরঞ্জামের ৩০ শতাংশের বেশি উৎপাদন রাশিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে বলে জানান তিনি।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, পুতিনের সফরে সুপার-আধুনিক সুখোই সু-৫৭ যুদ্ধবিমান ভারতের কাছে বিক্রির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ভারতীয় স্কোয়াড্রনের বড় অংশই বর্তমানে রাশিয়ার তৈরি সুখোই–৩০ বিমানে গঠিত।

এ ছাড়াও ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দেন যে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিরিক্ত পরিমাণে কেনার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। ভারত ইতোমধ্যে তিনটি এস–৪০০ পেয়েছে; আরও দুটি সরবরাহের কথা রয়েছে।

এএনআই জানিয়েছে, শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির ব্রাহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ কেনা নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘বল এখন ভারতের কোর্টে’

পুতিনের সফরের ঠিক আগে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, রাশিয়া ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত; তবে সম্পর্ক কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করছে ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর।

পেসকভ বলেন—

  • চীনের মতোই ভারতও রাশিয়ার বিশেষ কৌশলগত সহযোগী
  • ভারতের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে, যা রাশিয়া বুঝতে পারে
  • দুই দেশের সম্পর্ক “তৃতীয় দেশের প্রভাবমুক্ত” থাকা প্রয়োজন

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভেলিনা চাকারোভা মন্তব্য করেছেন, রাশিয়া ভারতের সঙ্গে ‘সীমাহীন কৌশলগত সহযোগিতা’র ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারত যদি এ প্রস্তাব গ্রহণ করে, এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে।

ভারতের দ্বিধা: রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই মেরুর মাঝে দিল্লি

জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের ডিন শ্রীরাম চাউলিয়া মনে করেন, রাশিয়ার আহ্বান সত্ত্বেও ভারত রাশিয়া–চীন–বিরোধী যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জোটে যোগ দেবে না। ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে দেখে। সে কারণে ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কিংবা রাশিয়া—কারও সঙ্গেই সম্পর্ক ছিন্ন করা সম্ভব নয়।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom