রাজনীতি

ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ‘জাস্টিস কার্ড’ চালুর দাবি হাসনাত আব্দুল্লাহর

অনলাইন ডেস্ক

১২ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


দেশে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও সেবামূলক কর্মসূচির আওতায় নানা ধরনের কার্ড চালু থাকলেও সাধারণ মানুষ এখনো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি সরকারের কাছে “জাস্টিস কার্ড” নামে নতুন একটি উদ্যোগ চালুর দাবি জানিয়েছেন, যা নাগরিকদের বিচারপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দাবি জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে হতাশার চিত্র

সভায় তিনি বলেন, দেশে “ফ্যামিলি কার্ড”, “কৃষক কার্ড”সহ বিভিন্ন খাতে সহায়তামূলক কর্মসূচি থাকলেও জনগণের একটি বড় অংশ এখনো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত না হলে সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ অর্থ বহন করে না।

হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, দেশে এখনো স্বাস্থ্যসেবায় আইসিইউ সংকট, চাকরিতে ঘুষের সংস্কৃতি এবং থানাকেন্দ্রিক দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব কারণে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা ও আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ নিয়ে উদ্বেগ

পথসভায় তিনি আরও বলেন, দেশে বিচারহীনতা, দুর্নীতি ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি এখনো বিদ্যমান। তার দাবি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে এবং গুম ও হত্যার মতো ঘটনাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে অনেক ভুক্তভোগী বিচার পাওয়ার আশা হারিয়ে অভিযোগ জানানো থেকেও বিরত থাকছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “জাস্টিস কার্ড” ধারণাটি মূলত প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা, যার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতি জনঅসন্তোষ তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এটি সরকারের সেবা কার্যক্রমের বিপরীতে “ন্যায়বিচার” ইস্যুকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আনার একটি প্রচেষ্টা বলেও মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বার্তার তাৎপর্য

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নাগরিক অধিকার, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপির তরুণ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে “জাস্টিস কার্ড” দাবিকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

তাদের মতে, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক প্রস্তাব নয়; বরং রাষ্ট্রীয় সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে ন্যায়বিচার ও নাগরিক আস্থার প্রশ্নকে তুলে ধরার কৌশলও বটে।

Dr.Mahfuzul Alom