জাতীয়

কৃষিতে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিং, সংসদে জানালেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

অনলাইন ডেস্ক

২ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


কৃষি খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং গ্রাম–শহরের বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান-এর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

লোডশেডিং কমাতে সাত দিনের আশ্বাস

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং রয়েছে। তবে আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, গ্রীষ্মের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সমস্যায় জনগণের ভোগান্তির জন্য সরকার দুঃখ প্রকাশ করছে। এ সংকট একদিনে তৈরি হয়নি, বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চাহিদা-উৎপাদনের ব্যবধান

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হিসাবে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, যেখানে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। ফলে প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

কৃষিকে অগ্রাধিকার

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফসলের মৌসুমে কৃষি খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না। সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, “শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের কৃষক কষ্টে থাকবে—এটা কাম্য নয়। বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে শহরেও প্রয়োজনে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে, যাতে কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পান।”

গ্যাস সংকট ও উৎপাদন সীমাবদ্ধতা

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে দৈনিক প্রায় ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট। আমদানিসহ মোট সরবরাহের পরও প্রতিদিন প্রায় ১১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার পরিকল্পনার কাজ চলছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের প্রভাব

দুটি আমদানিনির্ভর এবং একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের কারণে পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারছে না বলেও জানান তিনি। তবে এগুলো শিগগিরই পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সরকারের দুঃখ প্রকাশ

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জনগণের এই কষ্টের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।” তিনি আশ্বাস দেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom