আন্তর্জাতিক

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে চান পুতিন, দাবি ট্রাম্প—সমঝোতা না হলেও আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩ মাস আগে


{news.title}

মস্কোয় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ না হলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে চান বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্রেমলিনে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পরই এ মন্তব্য করেন তিনি। এর মধ্যেই কিয়েভের প্রধান আলোচকের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ওয়াশিংটন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার একাধিক অংশ এখনও গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আলোচ্য প্রস্তাবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনবাসের কিছু এলাকা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের চার বছর পরও কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

'ভালো বৈঠক হয়েছে'—ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি বলতে পারি, তারা প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে যথেষ্ট ভালো বৈঠক করেছেন। আলোচনা খুব ভালো হয়েছে। তবে এখনই কিছু বলা কঠিন, কারণ নাচতে হলে দু’জন লাগে—এটি উভয় পক্ষের ওপরই নির্ভর করছে।”

যুদ্ধ শেষ করতে পুতিন সত্যিকারের আগ্রহ দেখিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “তিনি যুদ্ধ শেষ করতে চান। তাঁদের ধারণা সেটাই।”

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইউক্রেন “প্রায়” সম্মতি দিয়েছে। তার মতে, জেলেনস্কির আরও আগেই প্রস্তাবে রাজি হওয়া উচিত ছিল—বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প-জেলেনস্কির উত্তপ্ত বৈঠকের সময়।

মস্কো বলছে—চুক্তি হয়নি, তবে আলোচনা চালু থাকবে

ক্রেমলিন জানিয়েছে, বৈঠকে কোনও আপস হয়নি। তবে পুতিন পুরো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেননি। মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “শান্তি চুক্তির জন্য যতবার প্রয়োজন আমরা বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। আমরা কূটনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

একই সঙ্গে মস্কোর পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে—যদি ইউরোপ যুদ্ধের পথে এগোয়, তবে রাশিয়া লড়াই করতে প্রস্তুত।

কিয়েভ: ‘শান্তির সুযোগ এসেছে, তবে চাপও রাখতে হবে’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দৈনিক ভাষণে বলেছেন, “বিশ্ব এখন স্পষ্টভাবে অনুভব করছে যে যুদ্ধ শেষ করার সুযোগ এসেছে। তবে চলমান আলোচনাকে রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রেখেই এগিয়ে নিতে হবে।”

এদিকে, ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডায় উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইউরোপের উদ্বেগ

ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে—ওয়াশিংটন ও মস্কো একে অপরের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় পৌঁছে গেলে তাদের পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। এজন্য গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব সংশোধনের চেষ্টা করছে যেন কিয়েভকে চাপের মুখে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা না হয়।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom