আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

২৬ দিন আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও ১০ দিন স্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে আসতে পারে- এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে পেন্টাগন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের চতুর্থ দিনে পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে সম্ভাব্য এই ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।

ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা গেছে, বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার ঘাটতি সবচেয়ে প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে বিপুল সামরিক সহায়তা দেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্র মজুত ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

গত বছরের ইরান সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ২৫ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যেভাবে ড্রোন ও রকেট ব্যবহার করছে, তা মোকাবিলায় ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টরের প্রয়োজন বাড়ছে। তবে এসব ইন্টারসেপ্টরের উৎপাদন হার তুলনামূলকভাবে ধীর।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান মাসে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র মাসে মাত্র ৬ থেকে ৭টি ইন্টারসেপ্টর তৈরি করতে সক্ষম।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার বর্তমানে ইতিহাসের সেরা অবস্থানে রয়েছে এবং এই মজুত দিয়ে ‘চিরকাল’ যুদ্ধ চালানো সম্ভব।

দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত কেবল অস্ত্র সংকটই তৈরি করবে না, বরং ফুরিয়ে যাওয়া গোলাবারুদ পুনরায় সংগ্রহ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হবে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান Center for a New American Security জানিয়েছে, একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়। অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে।

পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্স পূর্বাভাস দিয়েছেন, সংঘাত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হলে মোট ব্যয় ২১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। গত এক বছরে কেবল ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা ও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন অভিযানে ওয়াশিংটন ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেডিএএম (JDAM) কিট এবং নৌবাহিনী থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টরের মজুতও নিম্নমুখী। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের ফলেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পেন্টাগনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তির সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সংঘাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের মতো দেশের দীর্ঘস্থায়ী ও তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও রকেট হামলার বিরুদ্ধে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom