জাতীয়

দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের

অনলাইন ডেস্ক

৫ মাস আগে


দরিদ্র বাড়িয়ে বিদায় দারিদ্র্যের জাদুকর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের

ছবি: সংগৃহীত


শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘদিন ধরে ‘দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো’ দর্শনের কথা বলে আসছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-পরবর্তী গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দারিদ্র্য বিমোচন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল-এমনটাই মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

তবে সমালোচকদের দাবি, সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিম্নমুখী ছিল, বিনিয়োগ কমেছে, শিল্পখাতে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে এবং বেকারত্ব বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হচ্ছে, তার শাসনামলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন।

বিনিয়োগ ও উন্নয়ন ব্যয়

২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের গড় বিনিয়োগ জিডিপির ২৪ শতাংশ থাকলেও ২০২৫ সালের জুনে তা কমে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে। এক বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট পতনকে চার দশকের মধ্যে অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই সময়ে সরকারি বিনিয়োগও কমেছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন ছিল গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ব্যাংক খাত ও ঋণের বোঝা

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩৫ শতাংশ-এমন তথ্য সামনে এসেছে। আগের বছরের তুলনায় এটি বড় উল্লম্ফন।

সরকারি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায়। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধেই ব্যাংকিং ও বৈদেশিক উৎস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন ঋণ নেওয়া হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতা

ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশের কাছাকাছি, যেখানে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল এর নিচে। ফলে বাস্তব আয় কমেছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও কমেছে।

রিজার্ভ বৃদ্ধি: অর্জন নাকি বিতর্ক?

ড. ইউনূস তার বিদায়ী বক্তব্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বৃদ্ধি ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি হ্রাস ইতিবাচক দিক।

তবে সমালোচকেরা বলছেন, রিজার্ভ বৃদ্ধি হলেও উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও শিল্প সক্ষমতা বাড়েনি। তাদের প্রশ্ন-রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে কী ধরনের ব্যয় সংকোচন বা আমদানি নিয়ন্ত্রণ ভূমিকা রেখেছে এবং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে।

সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

দায়িত্ব নেওয়ার সময় ড. ইউনূস প্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতি সীমিত ছিল।

তার আমলে কিছু উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুবিধা গ্রহণ ও স্বার্থ-সংঘাতের অভিযোগ ওঠে। তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক-এর কর মওকুফ ও শেয়ার কাঠামো পরিবর্তন নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এছাড়া গ্রামীণ গ্রুপভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দ্রুত দেওয়া হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

‘তিন শূন্য’ দর্শন ও বাস্তবতা

ড. ইউনূস বিশ্বব্যাপী ‘তিন শূন্য’-শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ-ধারণা প্রচার করে আসছেন। সমালোচকদের প্রশ্ন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকাকালে তিনি এ লক্ষ্য অর্জনের পথে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে পেরেছেন কি না।

সব মিলিয়ে তার শাসনামল নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। এক পক্ষ রিজার্ভ বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক উত্তরণের প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে, অন্য পক্ষ অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব বৃদ্ধি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাকে বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করছে।

অতএব, ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সময়কাল বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে একটি বিতর্কিত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই আলোচিত হয়ে থাকবে।


‘ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে’—আইনমন্ত্রী
‘ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে’—আইনমন্ত্রী

বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সময়ে ৭০০-এর বেশি মানুষ গুম এবং ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর...

১১ ঘন্টা আগে


ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে। অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে...

১৩ ঘন্টা আগে


ভাটারা থানা ৪০ নং ওয়ার্ডে জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে দোয়া মাহফিল
ভাটারা থানা ৪০ নং ওয়ার্ডে জুলাই যোদ্ধাদের স্মরণে দোয়া মাহফিল

আজ, ৫ আগস্ট, ভাটারা থানা ৪০ নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে জুলাই যোদ্ধাদের আহত ও নিহতদের রূহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনাব মো. বদরুল আলম সাহেবসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।আল্লাহ তাআলা শহীদদের জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন, আহতদের দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করুন

১৫ ঘন্টা আগে


দেশে ফিরে আসুন, রাজপথে দেখা হবে: শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন
দেশে ফিরে আসুন, রাজপথে দেখা হবে: শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, “আমরা অপেক্ষা করে আছি, আসেন দেশে। দেশে আসেন, দেখা হবে ইনশাআল্লাহ—রাজপথে।”বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা...

১৬ ঘন্টা আগে

Dr.Mahfuzul Alom