দক্ষিণ লেবাননে হামলায় ১৩ নিহত: হামাস যোদ্ধা দাবি ইসরাইলের, বেসামরিক নাগরিক বলছে হামাস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননের দক্ষিণ বন্দর নগরী সিদনের আইন আল-হিলওয়েহ শরণার্থী শিবিরে ইসরাইলি হামলায় আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা অ্যাম্বুলেন্সের পাশে জড়ো হয়েছেন লোকজন। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির আইন আল-হেলওয়েতে ইসরাইলের বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে। লেবানন কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করলেও তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে ইসরাইল দাবি করেছে—নিহতরা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের সদস্য।
লেবানন কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) শরণার্থী শিবিরে চালানো হামলায় কমপক্ষে ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে তারা নিহতদের পরিচয় বা সংগঠনগত পরিচয় প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে হামাসের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে ‘সুনির্দিষ্ট হামলা’ চালানো হয়। এতে হামাসের ১৩ যোদ্ধা নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছিলেন জাওয়াদ সিদাওয়ি—যিনি লেবানন থেকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা পরিচালনার প্রশিক্ষণে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করে ইসরাইল।
বাকি ১২ জনের পরিচয় জানতে বার্তা সংস্থা এএফপি অনুরোধ করলেও ইসরাইলি বাহিনী তা জানায়নি। ইসরাইল আরও বলেছে, “হামাস সন্ত্রাসীরা যেখানে থাকবে, সেখানেই অভিযান চলবে।”
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হামাস এই হামলাকে ‘ভয়াবহ গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটি ১৩ যুবকের ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছে—নিহতরা কোনো যোদ্ধা নয়, বরং নিরীহ বেসামরিক নাগরিক। তারা আরও দাবি করেছে, লেবাননের ফিলিস্তিনি শিবিরে হামাসের কোনো সামরিক ঘাঁটি নেই এবং ইসরাইলের অভিযোগ ‘মিথ্যা’।
ইসরাইলি বাহিনী হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে একটি ভবনে হামলার দৃশ্য দেখা যায়। তবে হামাস বলছে, প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু ছিল একটি খোলা মাঠ—যেখানে শিবিরের তরুণরা খেলাধুলা করত এবং হামলার সময় সেখানে কয়েকজন কিশোর খেলছিল।
তথ্যসূত্র: আরব নিউজ

