অপরাধ

দাওয়াত না পেয়ে বিদ্যালয়ে তালা, বিএনপির ছয় নেতা আজীবন বহিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক

৩ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়াকে কেন্দ্র করে অফিস ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির ছয় নেতাকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব ও সদস্য সচিব খাইরুল কবীর মন্ডল আজাদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন-গাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার আউয়াল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আ. মান্নান মাস্টার, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. হাসমত আলী হাসু, ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. আরমান আলী, মো. মাহবুব আলম এবং মো. রফিকুল ইসলাম।

ঘটনা যেভাবে ঘটে

গত রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শুরুর কিছু সময় পরই স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা সেখানে উপস্থিত হয়ে কেন তাদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি-এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এক পর্যায়ে তারা শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক আব্দুস সামাদকে মারধর করেন। এ সময় মাইক্রোফোনও কেড়ে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে। এরপর বিএনপি নেতারা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা লাগিয়ে দেন।

প্রশাসনিক ও দলীয় ব্যবস্থা

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার পর বিষয়টি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আলোচনায় আসে। পরে উপজেলা বিএনপি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়।

গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক মনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির জরুরি সভায় ২২ সদস্যের মধ্যে উপস্থিত সবাই বহিষ্কারের পক্ষে মত দেন।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খাইরুল কবীর মন্ডল আজাদ বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সংগঠনীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ছয়জনকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।”

পরে পরিস্থিতি

স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে এবং পরে নেতাদের ফিরে এসে তালা খুলে দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

প্রসঙ্গ

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজিত ওই বিদায় অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল স্বাভাবিক একটি একাডেমিক আয়োজন। এ ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষাঙ্গনে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom