বানিজ্য

চাহিদার চাপে বাড়ছে মাংস-মসলার দাম, কমছে সবজি ও ডিমের

অনলাইন ডেস্ক

১৬ ঘন্টা আগে


{news.title}

আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। রমজান মাসের শেষ প্রান্তে এসে সেমাই-চিনি, মাংস-মসলা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী। বাড়তি চাহিদার প্রভাবে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, আবার কিছু পণ্যে দেখা গেছে নিম্নগতি-সব মিলিয়ে বাজারে বিরাজ করছে মিশ্র চিত্র।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সেমাই, চিনি, মসলা ও প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড়। ব্যবসায়ীরা জানান, পোলাও চাল, ভোজ্যতেল, মুরগি, গরুর মাংস ও কিছু মসলার দাম বেড়েছে। অন্যদিকে পেঁয়াজ, সবজি ও ফলের দাম কমেছে। চালসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

কারওয়ান বাজারের একাধিক দোকানি জানান, সেমাই ও চিনির দামে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সেমাই আগের দামের কাছাকাছিই বিক্রি হচ্ছে। খোলা সেমাই কেজিপ্রতি প্রায় ৯০ টাকা এবং লাচ্চা সেমাই ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি কেজিপ্রতি ১০০-১০৫ টাকা এবং দেশি চিনি ১৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

তবে ঈদ ঘিরে শুকনো ফল ও কিছু মসলার দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, কয়েকদিনের ব্যবধানে পোলাও চাল কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়ে ১৪০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিশমিশ, আলুবোখারা, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও পেস্তাবাদামের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চিনির দাম কমেছে। পাশাপাশি সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, দারুচিনি, লেবু, কাঁচামরিচসহ কিছু পণ্যের দাম কমেছে। অন্যদিকে সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, মসুর ডাল, লবঙ্গ ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে।

মুরগির বাজারে দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ২২০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ১৭০-১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৭০ টাকা, লেয়ার ৩১০-৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, চাহিদা বেশি এবং সরবরাহ কম থাকায় এ দাম বেড়েছে, তবে ঈদের পর তা কমতে পারে।

গরুর মাংসের দামও বেড়েছে। বর্তমানে কেজিপ্রতি ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে তুলনামূলক কম ছিল। তবে খাসির মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে, কেজিপ্রতি ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে।

অন্যদিকে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ৯০-১০০ টাকা এবং হাঁসের ডিম ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, ঈদকেন্দ্রিক চাহিদা কমে যাওয়ায় ডিমের দাম কমেছে।

মাছের বাজারেও ঈদের আগে দাম বেড়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে সবজির বাজারে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। চাহিদা কমে যাওয়ায় পেঁয়াজ, আলু, টমেটো, শসা, বেগুনসহ অধিকাংশ সবজির দাম কমেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের ছুটিতে অনেক মানুষ রাজধানী ছেড়ে যাওয়ায় চাহিদা কমে গেছে, ফলে দামও নিম্নমুখী।

এছাড়া বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ছোট বোতল পাওয়া যাচ্ছে না এবং বড় বোতল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom