শিক্ষা

সাত কলেজ সংকট জটিলতর, শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান–অবরোধ

অনলাইন ডেস্ক

৩ মাস আগে


{news.title}

রাজধানীর সরকারি বড় সাত কলেজকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো নিয়ে শিক্ষার্থী–শিক্ষকসহ এখন অন্তত পাঁচটি পক্ষ গড়ে উঠেছে। এতে পরিস্থিতি টানাপোড়েনের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টেরা।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে ঢাকা কলেজসহ সাত কলেজের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের একদল শিক্ষার্থী শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তাঁরা দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের কারণে শিক্ষা ভবন–সচিবালয় এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে কড়া অবস্থান নেয়।

অন্যদিকে কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার দাবিতে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ করছে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। আজও ঢাকা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা পৃথক মিছিল করেন। পরে তাঁরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করলে সড়কে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়।

শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানান, শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়ার পর এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

স্কুলিং মডেলের বিরোধিতা তীব্র হচ্ছে
পাঁচ কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা দাবি করছেন, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র স্কুলিং মডেলভিত্তিক খসড়া কাঠামো উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলবে। তাঁদের দাবি—স্কুলিং মডেল বাতিল ও উচ্চমাধ্যমিকের স্বতন্ত্র কাঠামো বহাল রাখা।

এদিকে কলেজগুলোর শিক্ষক সমিতিগুলোও প্রস্তাবিত কাঠামোতে নানা অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন। ইডেন মহিলা কলেজকে নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে অনেক ছাত্রী। গতকাল তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের একাংশও প্রস্তাবিত কাঠামোর বিরুদ্ধে আন্দোলনে যোগ দেয়।

অধ্যাদেশ কবে, পরিষ্কার নয় মন্ত্রণালয়
সংকটের মধ্যেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো পরিষ্কার করে বলতে পারেনি কবে অধ্যাদেশ জারি হবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই সাত কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এই অধিভুক্তি বাতিল করা হয়। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামো চূড়ান্ত না হওয়ায় এখন অন্তর্বর্তী প্রশাসকের মাধ্যমে কার্যক্রম চলছে।

এই সাত কলেজে দেড় লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে—যার মধ্যে পাঁচ কলেজে তিন স্তর (এইচএসসি, স্নাতক, স্নাতকোত্তর) এবং ইডেন–তিতুমীরে দুই স্তর চালু। আন্দোলনের কারণে বহুদিন ধরে স্বাভাবিক ক্লাস-পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটছে।

শিক্ষার্থী–শিক্ষক–অভিভাবকদের আশঙ্কা, কাঠামো নিয়ে চলমান টানা আন্দোলন সমাধান না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।

 

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom