সারাদেশ

ঈদুল আজহায় বৃষ্টি-গরমের মিশ্র আবহাওয়া, উত্তরাঞ্চলে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

৯ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে দেশের আবহাওয়ায় বৈচিত্র্যময় পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি কমে গিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ ও ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা শুরুর আগমুহূর্তে এমন আঞ্চলিক বৈপরীত্য স্বাভাবিক ঘটনা। মে মাসের শেষ দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, ফলে জুনের প্রথমার্ধে দেশে পূর্ণাঙ্গ বর্ষা শুরু হতে পারে।

কোথায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে

পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে অনেক জায়গায় দমকা হাওয়া, বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকাতেও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, ঈদের দিন রাজধানীসহ দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকতে পারে। তবে আগের রাতে বৃষ্টি হলে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।

অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, মাঝারি বৃষ্টিপাত সাময়িক স্বস্তি দিলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরম দ্রুত ফিরে আসতে পারে। তার মতে, জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জ্যৈষ্ঠের অস্বস্তিকর গরম অব্যাহত থাকতে পারে।

রাজধানীতে ভ্যাপসা গরমের আশঙ্কা

সোমবার সকালে ঢাকা-র আকাশ মেঘলা থাকলেও দুপুরের দিকে ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম এবং বৃষ্টির পরপরই আবার ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।

এদিকে খুলনা বিভাগসহ যশোর, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে-৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঈদের জামাত ও কোরবানিতে প্রভাবের আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের দিন সকালের দিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে, যা খোলা মাঠে ঈদের জামাত আয়োজন ব্যাহত করতে পারে। এ কারণে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে বিকল্প হিসেবে নিকটস্থ মসজিদ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানেও বৃষ্টি প্রতিরোধে বিশেষ শামিয়ানার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

কোরবানির সময়ও বৃষ্টির কারণে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই উন্মুক্ত স্থানের বদলে ছাউনিযুক্ত বা নিরাপদ স্থানে পশু জবাই করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পাশাপাশি বৃষ্টির পানির সঙ্গে কোরবানির বর্জ্য মিশে যাতে জলাবদ্ধতা বা পরিবেশ দূষণ না ঘটে, সে বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন-সহ স্থানীয় প্রশাসনকে বাড়তি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Dr.Mahfuzul Alom