জাতীয়

ঈদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল, ১০ দিনে নিহত ২৭

অনলাইন ডেস্ক

১ দিন আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রবণতা বেড়েছে। গত ১৬ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনে ৩৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত এবং অন্তত ১০৬ জন আহত হয়েছেন। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের তথ্যে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক চিত্র।

জানা গেছে, দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১০৪ কিলোমিটার মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদকে কেন্দ্র করে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, চালকদের বেপরোয়া গতি এবং অসচেতনতা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ঈদের দিন রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে। সেখানে ঢাকা মেইল ট্রেনের ধাক্কায় লক্ষ্মীপুরগামী একটি বাসের ১২ যাত্রী নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ১৮ জন। এছাড়া বুড়িচংয়ের কালাকচুয়া এলাকায় বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হন।

মানবিক দিক থেকে এসব দুর্ঘটনা আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে। এক ঘটনায়, ঝিনাইদহ থেকে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে লক্ষ্মীপুরে যাচ্ছিলেন পিন্টু ইসলাম। তিনি মাঝপথে ঢাকায় নেমে গেলেও তার স্ত্রী ও সন্তানরা বাসে করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। কিন্তু রেলক্রসিং দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তার স্ত্রী ও দুই কন্যা। একমাত্র ছেলে বেঁচে থাকলেও পুরো পরিবার হারিয়ে সে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে ১১ দিনে নিহতের সংখ্যা ছিল ২৪৯। সে হিসেবে এ বছর মৃত্যুহার বেড়েছে।

কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম খান বলেন, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, চালকদের অবহেলা এবং পথচারীদের অসচেতনতার কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ-মহাসড়কে পুলিশের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি রয়েছে। বিশেষ করে ঈদের সময়ে থ্রি-হুইলারের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোয়ারা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিবেদন প্রকাশ পায় না। ফলে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় দুর্ঘটনা কমছে না। তারা সড়কে কঠোর আইন প্রয়োগ, চালকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দিয়েছেন।

এদিকে ঈদযাত্রাকে ঘিরে এমন প্রাণহানির ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই ‘মৃত্যুর মিছিল’ আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom