সারাদেশ

হাওরে জলাবদ্ধতায় ফসলহানি, সরকারি দামে হতাশ বোরো চাষিরা

অনলাইন ডেস্ক

৫ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


চৈত্রের অকাল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সরকার ঘোষিত ধান-চালের দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ফসলহানি, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা।

জলাবদ্ধতায় তলিয়েছে ফসল

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ধর্মপাশা উপজেলায় ১৮ হাজার ২৯০ হেক্টর এবং মধ্যনগরে ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৬৫৫ হেক্টর জমির ফসল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে টগার হাওরে, যেখানে ১৮০ হেক্টরের বেশি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

ধান কাটা কমেছে, শ্রমিক সংকট

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পর্যন্ত দুই উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ১৯১ হেক্টর, অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জায়গায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না, পাশাপাশি শ্রমিক সংকটও রয়েছে।

সরকারি দামে অসন্তোষ

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার এবার ধান কিনবে কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা, সেদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা দরে। গত বছরের মতো একই দাম নির্ধারণ করায় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও দামে কোনো সমন্বয় না হওয়ায় তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন।

কম দামে বিক্রিতে বাধ্য কৃষক

পরিবহন সংকট ও নগদ টাকার প্রয়োজনের কারণে অনেক কৃষক হাওরেই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করছেন, যেখানে সরকারি দামে প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৪০০ টাকার বেশি হওয়ার কথা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফড়িয়া ও চাতাল মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে ধানের দাম আরও কমে গেছে।

কৃষকদের অভিজ্ঞতা

ধর্মপাশার কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, “সার, কীটনাশক, শ্রমিক-সব কিছুর দাম বেড়েছে। তার ওপর ফসলের ক্ষতি। কিন্তু বাজারে দাম বাড়েনি। এতে কৃষকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”

অন্য কৃষক গোলাম হুসাইন জানান, এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে খরচ হয় ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা, কিন্তু বিক্রি করে পাওয়া যায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা-যা খুবই সামান্য লাভ, অনেক ক্ষেত্রে লোকসানও হচ্ছে।

নীতিগত পদক্ষেপের দাবি

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত কৃষকের কাছে সরকারি দামে ধান ক্রয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কৃষকরা যদি সরাসরি সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারেন, তাহলে তারা প্রকৃত লাভবান হবেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।

সার্বিক চিত্র

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বাজারের অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতায় হাওরাঞ্চলের বোরো চাষিরা বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কৃষকদের আগ্রহ কমে গিয়ে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom