ধর্ম

দোয়া কবুল না হলে হতাশ নয়, ভরসা রাখুন আল্লাহর ওপর

অনলাইন ডেস্ক

২ মাস আগে


{news.title}

সৃষ্টিজগতের একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ তাআলা। আল্লাহর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক হলো—তিনি আমাদের মালিক, আর আমরা তাঁর বান্দা। একজন দাস হিসেবে আমরা একমাত্র আমাদের প্রভুর কাছেই সব চাওয়া–পাওয়ার আবেদন জানাই। সেই আবেদন জানানোর সর্বোত্তম মাধ্যম হলো দোয়া।

দোয়ার আক্ষরিক অর্থ ‘ডাকা’। অর্থাৎ দোয়া হলো—একজন অসহায়, বিনম্র বান্দা তার সৃষ্টিকর্তার দিকে ফিরে নিজের প্রয়োজন, আকাঙ্ক্ষা ও সমস্যার সমাধান প্রার্থনা করা। আল্লাহ কখন, কীভাবে এবং কোন রূপে দোয়ার জবাব দেবেন—তা একমাত্র তিনিই জানেন।

অনেক সময় দোয়ার তাৎক্ষণিক ফল না পেয়ে মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে। তখন শয়তান মনে কুমন্ত্রণা দেয়—আল্লাহ হয়তো আমাকে ভালোবাসেন না, তাই আমার দোয়া কবুল হচ্ছে না। অথচ আমাদের মনে রাখতে হবে, সৃষ্টিজগতে একমাত্র নিরাশ সত্তা হলো শয়তান। মুমিন কখনো নিরাশ হয় না।

পবিত্র কোরআনে হজরত জাকারিয়া (আ.) বলেন,
‘হে আমার প্রতিপালক, আপনার কাছে দোয়া করে আমি কখনো ব্যর্থ হইনি।’
—সুরা মারইয়াম, আয়াত: ৪

আল্লাহ তাআলা আমাদের আশার বাণী দিয়ে বলেন,
‘ভেঙে পড়ো না, নিরাশ হয়ো না—নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য নিকটবর্তী।’
—সুরা বাকারা, আয়াত: ২১৪

এই দুনিয়া পরীক্ষার স্থান। কখনো সুখ, কখনো দুঃখ—সবই পরীক্ষার অংশ। নবী–রাসুলরাও এই পরীক্ষার বাইরে ছিলেন না। পবিত্র কোরআনে তাঁদের দোয়া ও কষ্টের কাহিনি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে, যেন মুমিনরা শিক্ষা নিতে পারে।

হজরত ইয়াকুব (আ.) বছরের পর বছর তাঁর প্রিয় পুত্র ইউসুফ (আ.)-এর জন্য দোয়া করেছেন। দীর্ঘ সময় পর হলেও আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছেন। আবার হজরত মুসা (আ.)-এর মায়ের দোয়া ছিল তাৎক্ষণিক—সন্তানকে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার পরপরই তিনি আবার সন্তানকে ফিরে পান। এতে বোঝা যায়, দোয়া কবুলের সময় আল্লাহর হিকমতের ওপর নির্ভরশীল।

দোয়া কবুলের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো—খাঁটি নিয়তে তাওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা। অতীত ও বর্তমান সব গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। দোয়ার আদব হলো—আল্লাহ সম্পর্কে সুন্দর ধারণা রাখা, তাঁর গুণবাচক নামে ডাকা, বিনম্রতা ও গভীর বিশ্বাসের সঙ্গে প্রার্থনা করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন,
‘তোমরা যা কিছু চেয়েছ, তিনি তোমাদের তা দিয়েছেন। আল্লাহর নেয়ামত গুনে শেষ করা যাবে না।’
—সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩৪

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায় না, আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন।’
—সুনানে তিরমিজি

আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেন,
‘আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেব। যারা অহংকার করে দোয়া করে না, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’
—সুরা গাফির, আয়াত: ৬০

দোয়া কখনো বিফলে যায় না—হয় দুনিয়ায় কবুল হয়, নয়তো পরকালের জন্য সঞ্চিত থাকে। একজন মুমিনের জন্য উভয় অবস্থাই কল্যাণকর। তাই দোয়ার দরজা কখনো বন্ধ করবেন না।

আল্লাহ তাআলা বলেন,
‘আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব।’
—সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫২

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom