ঢাকা কলেজে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস পালিত
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ – ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে আজ ঢাকা কলেজে এক বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল: “আওয়ার এভরিডে এসেনশিয়ালস” (Our Everyday Essentials)। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ঢাকা কলেজস্থ 'Human Rights Defenders Society Dhaka College।
ঢাকা কলেজ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে সকাল ১১:৩০ মিনিটে র্যালি শুরু হয় এবং কলেজ প্রদক্ষিন করে আলোচনা সভার মাধ্যমে তা শেষ হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, Human Rights Defenders Society'র কেন্দ্রীয় ও কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দ এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
বক্তাদের মূল বক্তব্য:
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ স্যার। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন 'হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটি'র কেন্দ্রীয় আহবায়ক সিফাত উল্লাহ (সিফাত) ভাই।
১. প্রধান অতিথির ভাষণ: অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ স্যার (অধ্যাপক, ইসলামের ইতিহাস বিভাগ)
অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ স্যার তাঁর বক্তব্যে মানবাধিকারের মূল ধারণাটি ব্যাখ্যা করে বলেন, "মানব অধিকার—এখান থেকেই আসলে মানবাধিকার শব্দটির উৎপত্তি। আমরা সবাই স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণ করি। জন্মগ্রহণের পর আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে কিছু অধিকারও বাড়তে থাকে। আমাদের যেমন রাষ্ট্রের প্রতি অধিকার থাকে, তেমনি রাষ্ট্রও আমাদের প্রতি কিছু অধিকার নিশ্চিত করে থাকে।"
তিনি এবারের প্রতিপাদ্য 'আওয়ার এভরিডে এসেনশিয়ালস'-এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "মানবাধিকার প্রতিনিয়ত, প্রতিমুহূর্তে, প্রতি সেকেন্ডেই প্রয়োজন। আমার অধিকার রক্ষা করার পাশাপাশি অন্যের অধিকারকেও মেনে নেওয়াও মানবাধিকারের অংশ। আমরা যেখানে যে অবস্থাতেই থাকি না কেন, আমরা সব সময় মানব হব, মানবতাকে সম্মান করব এবং মানবতাকে নিয়েই বেঁচে থাকব।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মানুষ পৃথিবীতে খুব বেশি সময় বাঁচে না, তাই যতদিন বাঁচি, ততদিন যদি মানুষের কল্যাণে, মানুষের অধিকার নিয়ে কিছু অবদান রেখে যেতে পারি, তাহলেই এই পৃথিবীতে আমাদের অবস্থান অমর হয়ে থাকবে।
২. প্রধান আলোচকের বক্তব্য: সিফাত উল্লাহ (সিফাত) ভাই, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার সোসাইটির কেন্দ্রীয় আহবায়ক সিফাত উল্লাহ (সিফাত)
এবারের প্রতিপাদ্যের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বলেন, "আওয়ার এভরিডে এসেনশিয়ালস—অর্থাৎ আমাদের প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় অত্যাবশ্যকীয় জিনিসগুলোই আমাদের হিউম্যান রাইটস। মানবাধিকার কেবল আইন বা সংবিধানের কাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নয়, আমাদের খাদ্য, অন্ন, বস্ত্র থেকে শুরু করে যত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আছে, সবগুলোই আমাদের মানবাধিকার।"
তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, "১৯৭১ সালে বৈষম্যের শিকার হওয়ার কারণেই আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম। সেই স্বাধীনতা ছিল মানবাধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করার বিরুদ্ধে একটি সংগ্রাম। দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, কীভাবে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং, কীভাবে গুমের শিকার হয়েছে এবং কীভাবে একটি ভয়ের কালচার তৈরি হয়েছিল—আমরা তা দেখেছি।"
তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, "আমরা তরুণ প্রজন্ম আজকে মানবাধিকার দিবসে স্ট্রংলি ভয়েস রেইজ করছি যে, আর কখনো বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে না। আমরা সবাই চাই বাংলাদেশের সবার মানবাধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর জন্য আমরা সবসময় সোচ্চার আছি ও লড়াই চালিয়ে যাব।"
৩. অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্য: মুহাম্মদ ওমায়ের, সভাপতি, হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটি ঢাকা কলেজ।
অনুষ্ঠানের সভাপতি তাঁর তৈরি বক্তব্যে উদযাপনের মূল কারণ তুলে ধরেন, যা ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র (UDHR)-এর গুরুত্বকে কেন্দ্র করে। তিনি বলেন, "আজকের এই র্যালিতে যোগ দিয়ে আমরা কেবল একটি দিবস পালন করছি না, বরং আমরা একটি প্রতিজ্ঞা নিচ্ছি—যে আমরা আমাদের সমাজে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সব সময় সচেতন থাকব এবং দৃঢ়ভাবে এর প্রতিবাদ করব।" তিনি উপস্থিত সকলকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গড়তে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরিশেষে,
বক্তাগণ আশা প্রকাশ করেন যে, যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন মানুষের অধিকার থাকবে, মানবাধিকার বেঁচে থাকবে। ঢাকা কলেজের এই উদ্যোগ তরুণদের মধ্যে মানবাধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি অধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

