সারাদেশ

বাজেটের আকার নয়, গুরুত্ব দিতে হবে গুণগত মানে: মাহমুদুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক

৬ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


মাহমুদুর রহমান বলেছেন, বাজেটের আকার বড় করাই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়; বরং উন্নয়ন ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতিজনিত অপচয় বা ‘লিকেজ’ বন্ধ করাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ অ্যান্ড থটস আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলাপ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন,
“সক্ষমতা ছাড়া যদি বাজেটের আকার কিংবা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়ানো হয়, তাহলে লিকেজ আরও বাড়বে। বাজেট বড় হওয়াকে রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে, কিন্তু বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, দেশের মূল্যস্ফীতি ইতোমধ্যে ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। শুধুমাত্র সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার কমানো বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় শ্রমঘন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষাখাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।

কৃষকদের প্রসঙ্গ তুলে মাহমুদুর রহমান বলেন, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রান্তিক চাষিদের দেউলিয়া হওয়া ঠেকাতে কার্যকর নীতি গ্রহণ জরুরি।

তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও সেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। তার ভাষায়,
“কর্মসংস্থান তৈরির কাজ বেসরকারি খাতের, সরকারের নয়। সরকারি চাকরি বাড়ানো দেশের জন্য ইতিবাচক খবর নয়, কারণ এতে সরকারের ব্যয় বেড়ে যায়।”

গোলটেবিলে বক্তারা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ সুবিধা, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর সহায়তা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে জবাবদিহিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকস (এসবিই)-এর ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের বাজেটের আকার প্রায় এক হাজার গুণ বেড়ে বর্তমানে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা, দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়ের কারণে অর্থনীতির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের অর্থনীতি মন্থর প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় ভুগেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৮ থেকে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ড. ওয়ারেসুল করিম আরও বলেন, দেশের সার্বভৌম ঋণ বর্তমানে প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সুদ ও মূলধন পরিশোধে বার্ষিক ব্যয় প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। তার মতে, সমস্যা করের হারে নয়; বরং করের আওতা সংকীর্ণ হওয়ায় একই করদাতাদের ওপর বারবার চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

কর ব্যবস্থার সংস্কারে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন, ই-ফাইলিং ও ই-ভ্যাট ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার সুপারিশ করেন তিনি। একই সঙ্গে পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ কর, সম্পত্তি কর এবং অবৈধ সম্পদের ওপর কর আরোপের পক্ষেও মত দেন তিনি।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom