আন্তর্জাতিক

৭২ বছর বয়সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন, সংগ্রামী মায়ের অনুপ্রেরণার গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১২ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


তিন মেয়েকে একা হাতে বড় করতে গিয়ে জীবনের বড় একটি সময় পার করেছেন ইর্মা গার্সিয়া। সংসার, জীবিকা ও সন্তান পালনের ব্যস্ততার ভিড়ে নিজের স্বপ্নকে বহু বছর অপেক্ষায় রাখতে হলেও শেষ পর্যন্ত তা হারিয়ে যেতে দেননি। অবশেষে ৭২ বছর বয়সে এসে তিনি অর্জন করেছেন বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত স্নাতক ডিগ্রি।

ইর্মা গার্সিয়া–এর এই অর্জন এখন অধ্যবসায়, আত্মত্যাগ ও আজীবন শিক্ষার অনন্য উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

১৯৭৮ সালে তরুণ বয়সে উন্নত জীবনের আশায় পুয়ের্তো রিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় পাড়ি জমান গার্সিয়া। তখন তার বড় মেয়ের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর এবং যমজ দুই মেয়ের বয়স এক বছর। নতুন দেশে এসে একাই সন্তানদের বড় করতে হয়েছে তাকে। সংসারের খরচ চালাতে একাধিক চাকরি করাও ছিল তার নিত্যদিনের বাস্তবতা।

গার্সিয়া বলেন, তিনি মূলত পড়াশোনার সুযোগের জন্যই পুয়ের্তো রিকো ছেড়েছিলেন। কারণ সেখানকার সীমিত আয়ে পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা কঠিন ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি একটি কমিউনিটি কলেজে ভর্তি হন এবং আশির দশকে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। কিন্তু তিন মেয়ের দায়িত্ব কাঁধে থাকায় তখন আর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ কয়েক দশক পর, বয়স যখন ষাটের শেষ দিকে, তখন আবারও পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ পান তিনি। আংশিক অবসরে যাওয়ার পর নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করতে সক্ষম হন। পাশাপাশি George Mason University–এর প্রবীণদের জন্য টিউশন ফি মওকুফ কর্মসূচির আওতায় প্রতি সেমিস্টারে বিনামূল্যে তিনটি কোর্স করার সুযোগ তাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখায়।

অবশেষে গত ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়টির শার স্কুল অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ক্যাপ ও গাউন পরে মঞ্চে উঠে ডিপ্লোমা গ্রহণের মুহূর্তটি ছিল দীর্ঘ সংগ্রামের এক আবেগঘন পরিণতি।

গার্সিয়ার ভাষায়, “তরুণ বয়সে মনে হয় সবকিছু এখনই অর্জন করতে হবে। কিন্তু জীবনে সবকিছু একই সময়ে করতে হয় না। নিজের সময়মতো এগোনোটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

বর্তমানে আট নাতি-নাতনির দাদি গার্সিয়া জানান, তার পরিবারের সদস্যরাই ছিলেন সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নাতি-নাতনিরা প্রযুক্তি ব্যবহারে সাহায্য করেছে, পড়াশোনার নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে। মেয়েরাও আর্থিক ও মানসিকভাবে পাশে থেকেছেন। তাই তিনি এই অর্জনকে “পারিবারিক সাফল্য” বলেই মনে করেন।

গার্সিয়ার পরিবারে দেরিতে ডিগ্রি অর্জনের এক ধরনের ঐতিহ্যও রয়েছে। তার দাদি নিজের সন্তানদের সঙ্গে হাইস্কুল সম্পন্ন করেছিলেন এবং তার মা অবসরের পর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনে গার্সিয়া গৃহহীন মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করতে কাজ করেছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের জন্য রেস্তোরাঁয় কাজ করা থেকে শুরু করে কলেজে কেরানির দায়িত্বও পালন করেছেন। আত্মীয়স্বজন ছাড়া নতুন দেশে সন্তানদের দেখভাল করা ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় ক্লাসে যাওয়ার সময় সন্তানদেরও সঙ্গে নিয়ে যেতে হতো।

তিনি বলেন, “এটি সহজ নয়, তবে সম্ভব। আমাদের সবারই একটি ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখা উচিত।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইর্মা গার্সিয়ার গল্প শুধু ব্যক্তিগত সফলতার নয়; এটি নারীর শিক্ষা, আত্মনির্ভরতা এবং আজীবন শেখার গুরুত্বের এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে। তার এই অর্জন প্রমাণ করে—স্বপ্ন পূরণের জন্য বয়স কখনোই বাধা নয়।

Dr.Mahfuzul Alom