আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে উপসাগরীয় দেশগুলোতে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বা সম্ভাব্য আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি কেন্

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে উপসাগরীয় দেশগুলোতে নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বা সম্ভাব্য আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তার এই মন্তব্যকে আঞ্চলিক কূটনীতিতে সম্ভাব্য বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে হরমুজ প্রণালি

বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিষয় তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পাচ্ছে। বরং আলোচনার মূল ফোকাস হয়ে উঠছে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই রুটে যেকোনো পরিবর্তন বা অস্থিরতা সরাসরি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ

উপসাগরীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনার অগ্রাধিকার পরিবর্তন ইরানের প্রভাব কমানোর বদলে তা আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে। তাদের মতে, ইরানের ভূমিকাকে সীমিত না করে বরং কার্যত স্বীকৃতি দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তেহরানের প্রভাব আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

একজন জ্যেষ্ঠ উপসাগরীয় সূত্র বলেন, “শেষ পর্যন্ত হরমুজই রেড লাইন হয়ে উঠছে। আগে এটি আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল না, এখন সেটাই হয়ে যাচ্ছে।”

কূটনৈতিক অগ্রাধিকারে পরিবর্তন

সূত্রগুলো বলছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিতে এখন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত বাস্তবতা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়টি আগের তুলনায় আলোচনায় কম প্রাধান্য পাচ্ছে।

ইরান এখনো ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ প্রস্তাব এবং বিদেশে ইউরেনিয়াম মজুত স্থানান্তরের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে, ফলে আলোচনায় অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

মেদভেদেভের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া

মেদভেদেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তিনি হরমুজ প্রণালিকে “কৌশলগত চাপ সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান” হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, এই প্রণালির সম্ভাব্য ব্যবহার ভবিষ্যৎ আলোচনার গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষণ

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি বা উত্তেজনার সময় উপসাগরীয় নৌপথে ইরানের অবস্থান দীর্ঘদিনের কৌশলগত বাস্তবতার অংশ। তবে সাম্প্রতিক সময় এই বিষয়টি প্রথমবারের মতো আলোচনার টেবিলে সরাসরি চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে উঠে এসেছে।

ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি তাদের জন্য কেবল একটি ভৌগোলিক পথ নয়; বরং এটি একটি কৌশলগত প্রতিরোধব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচিত।

উপসংহার

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মেদভেদেভের মন্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; বরং এটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির ভবিষ্যৎ জটিলতার একটি ইঙ্গিত। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আলোচনার অগ্রাধিকার বদলে গেলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom