জাতীয়

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় সরকার

অনলাইন ডেস্ক

৫ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকার এক ধরনের সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নির্বাচনের আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে অবস্থান নিলেও সরকার গঠনের পর বিষয়টি নিয়ে শাসকদলের অবস্থান স্পষ্ট নয় বলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর নীতিনির্ধারক ও তৃণমূল পর্যায়ে গণভোট নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা দেখা যায়। এর প্রভাব গণভোটের ফলেও প্রতিফলিত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। অনেক আসনে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হলেও সেখানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পরাজিত হয়েছে।

সম্প্রতি জুলাই সনদের বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হলে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ ‘কেন গণভোট অবৈধ ঘোষণা করা হবে না’-এ মর্মে রুল জারি করে। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও মো. আনোয়ারুল ইসলামের বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথের দিনই একই ব্যক্তির মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও বিএনপি ও তাদের মিত্রদের অনেকেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলীয় জোটের ৭৭ জন প্রতিনিধি সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য-দুই পদেই শপথ নেন।

আইন অনুযায়ী গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এখনো তা আহ্বান করা হয়নি।

এ অবস্থায় শনিবার জরুরি বৈঠক শেষে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

এদিকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করে সরকারের অবস্থান জানতে চাওয়া হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যমান সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিধান নেই। এজন্য বিষয়টি আগে সংসদে আলোচনা করে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে হলে আগে সংসদে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করতে হবে। শপথের ধরন ও কর্তৃপক্ষ সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে নির্ধারণ করতে হবে।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা হওয়া প্রয়োজন। না হলে তা আইনের ব্যত্যয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তার মতে, গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত সংস্কার বাস্তবায়নে দলটির স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা না হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom