জাতীয়

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে জ্বালানি সংকট: নওগাঁয় মোটরসাইকেল বিক্রি প্রায় স্থবির

অনলাইন ডেস্ক

৯ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এর প্রভাবে দেশের জ্বালানি বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নওগাঁ জেলার মোটরসাইকেল বাজারে। তেল সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণে জেলায় মোটরসাইকেল বিক্রি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) নওগাঁ শহরের বিভিন্ন মোটরসাইকেল শোরুম ঘুরে দেখা যায়, যেখানে আগে ক্রেতাদের ভিড় থাকত, এখন সেখানে নেই কোনো ক্রেতা। সার্ভিসিং সেন্টারগুলোতেও কমে গেছে মোটরসাইকেলের আনাগোনা। অধিকাংশ সময় অলস বসে থাকতে দেখা গেছে কর্মচারীদের।

বিক্রেতাদের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে প্রতিদিন যেখানে ৫ থেকে ৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়। সারাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় ক্রেতারা নতুন মোটরসাইকেল কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।এছাড়া বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলের বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল না দেওয়ার কারণে অনেকেই মোটরসাইকেল ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে সার্ভিসিং সেন্টারগুলোতেও কাজ কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ নওগাঁ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। এর বাইরে আরও প্রায় ১ লাখ মোটরসাইকেল অনিবন্ধিত রয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলায় শতাধিক মোটরসাইকেল বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে।

নওগাঁর তালতলী এলাকার স্কুলশিক্ষক নাসির হায়দার বলেন, ঈদের আগে মোটরসাইকেল কেনার পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা স্থগিত করেছেন। পাম্পে দীর্ঘ লাইনের কারণে তিনি নতুন মোটরসাইকেল কেনার সাহস পাচ্ছেন না।

হিরো মোটরসাইকেলের ডিলার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, “ঈদের তৃতীয় দিনের পর থেকে একজন ক্রেতাও দোকানে আসেনি। আগে যেখানে দিনে ৫-৭টি মোটরসাইকেল বিক্রি হতো, এখন একটিও বিক্রি হচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন শোরুম পরিচালনায় প্রায় ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি না থাকায় লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।

অন্যদিকে, আরিস মোটরসের স্বত্বাধিকারী মোতাহার হোসেন বলেন, “গত ৯ বছরে এ বছর সবচেয়ে খারাপ ব্যবসায়িক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি।” ঈদকে কেন্দ্র করে ২৫০টি মোটরসাইকেল বিক্রির লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে মাত্র ১১০টি।

টিভিএস বাইক ওয়ার্ল্ডের সেলস এক্সিকিউটিভ সাদনান আনসারী জানান, আগে যেখানে দিনে ২৫-৩০টি মোটরসাইকেল সার্ভিসিংয়ে আসত, এখন তা নেমে এসেছে ১-২টিতে।

নওগাঁর মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্থানে লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া তেল না দেওয়ার কারণে ভবিষ্যতে ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন বাড়তে পারে, যদিও এখনো তেমন চাপ দেখা যায়নি।

বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom