জাতীয়

দেশে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং বেড়ে চরম ভোগান্তি: উৎপাদন, কৃষি ও শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব

অনলাইন ডেস্ক

২ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন, কৃষি ও শিল্প খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।

সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্য ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রে বিদ্যুৎ ঘাটতির পার্থক্য থাকায় লোডশেডিং নিয়ে ‘তথ্য গরমিল’ ও ‘চাপা দেওয়ার চেষ্টা’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উৎপাদন কম, চাহিদা বাড়ছে

পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, চলতি গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে গড় চাহিদা ১৫ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৪ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট।

দেশের ১৩৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১৮টি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যার মধ্যে গ্যাসভিত্তিক ১০টি ও তেলভিত্তিক ৮টি কেন্দ্র রয়েছে। আরও ৩৫টি কেন্দ্র আংশিকভাবে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কয়লা ও গ্যাস সরবরাহ সীমিত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।

লোডশেডিংয়ের তথ্যে গরমিল

বিদ্যুৎ সরবরাহ সংস্থাগুলোর তথ্যেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। পিজিসিবি, পিডিবি এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর দেওয়া লোডশেডিং পরিসংখ্যানে মিল নেই।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, একই সময়ে বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন ঘাটতির তথ্য দিচ্ছে, যা লোডশেডিংয়ের প্রকৃত চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে আরইবির দেওয়া ঘাটতির তথ্য পিজিসিবির তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম মন্তব্য করতে রাজি না হলেও জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

জ্বালানি সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধি

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম বৃদ্ধির কারণে তেলভিত্তিক উৎপাদন কমিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস সংকটও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, “জ্বালানি সংকট দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ খাতে চাপ সৃষ্টি করছে। তাপমাত্রা বাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”

কৃষি খাতে প্রভাব

লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। ডিজেল সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুৎ না থাকায় সেচপাম্পগুলো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষকরা জানিয়েছেন, দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে বোরো মৌসুমের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিল্প ও রপ্তানি খাতে চাপ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে তৈরি পোশাক শিল্পসহ রপ্তানিমুখী খাতে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিচ্ছেন এবং অনেক অর্ডার ভারতসহ অন্যান্য দেশে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “ডিজেল ও বিদ্যুৎ সংকটে কারখানাগুলো উৎপাদন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে সময়মতো পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না।”

নারায়ণগঞ্জের এক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুৎ অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি সংকটে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে এবং ঈদ মৌসুমেও ডেলিভারি সময়মতো দেওয়া যাচ্ছে না।

কৃষি, শিক্ষা ও জনজীবনে ভোগান্তি

এসএসসি পরীক্ষার্থীরা লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনায় বিঘ্নের অভিযোগ করেছেন। গ্রামাঞ্চলে কৃষকরা সেচ ও উৎপাদন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

এদিকে শহরাঞ্চলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে গরমে জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom